এ কারণেই একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে কংগ্রেস। ২১ নভেম্বর থেকে কাতারে শুরু হবে বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করবে তিতের দল। আপাতত খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ ক্লাবের মৌসুম নিয়ে ব্যস্ত। তবে কাতার বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দল যখন প্রস্তুতি শুরু করবে, তখন এই প্রস্তুতির দেখভাল করতে একটি কমিটি গঠন করেছে ব্রাজিলের কংগ্রেস।

ব্রাজিলের এই আইনসভার নিম্নকক্ষের ক্রীড়া কমিটি বৃহস্পতিবার ভোটাভুটির মাধ্যমে আলাদা একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটির কাজ হবে নেইমাররা কাতার বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি কতটা ভালোভাবে নিচ্ছেন, তা তদারক করা।

default-image

বিশ্বকাপ শুরু হতে তিন মাসের মতো সময় বাকি। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর সাফল্য পায়নি ব্রাজিল। দেশটির ফুটবলে দ্বিতীয় হওয়া বলে কিছু নেই। শিরোপা জয় ছাড়া আর কোনো কিছুই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে সাফল্য হিসেবে দেখা হয় না। এ কারণে ২০০২ বিশ্বকাপের পর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের পারফরম্যান্সকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়।

জাতীয় দলের বিশ্বকাপ-প্রস্তুতি তদারক করতে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন কংগ্রেসের সদস্য জোসে রোচা। প্রস্তাবনাপত্রে এ নিয়ে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি, ‘২০০২ সালে পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি। ২০১৪ সংস্করণ আলাদা—আমরা সেবার বিশ্বকাপের আয়োজন করে জার্মানির কাছে লজ্জাজনক হারে বাদ পড়েছি।’

২০০২ জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চার বছর পর জার্মানিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ে ব্রাজিল। জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলের হারে বিদায় নিতে হয় রোনালদো-রোনালদিনিওদের। ২০১০ বিশ্বকাপেও বিদায় নিতে হয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে, নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে।

এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হন নেইমাররা। জোসে রোচা মনে করেন, জার্মানির কাছে সেই হার এবং ২০ বছরের বিশ্বকাপ ট্রফি-খরায় ‘ভক্তরা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল থেকে দূরে সরে গেছেন।’

default-image

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, পেলের দেশে বিশ্বকাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমেছে। এ নিয়ে ব্রাজিলের তথ্য-বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ‘ডাটাফোলহা’র সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রকাশ হয়েছে, যা জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। ব্রাজিলের শতকরা ৫১ শতাংশ মানুষের বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহ নেই। রোচার মনে, ‘আমাদের খেলাটা জাগিয়ে তুলতে হবে। ব্রাজিলিয়ান সমাজে (ফুটবল) এটা জাতীয় আবেগ।’

তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, নেইমারদের বিশ্বকাপ–প্রস্তুতি তদারকি ছাড়া কি ব্রাজিলের কংগ্রেসের আর কোনো কাজ নেই! দেশটির আইনজীবী জানিস আসকারির টুইট, ‘এসব আইনপ্রণেতা কি ক্ষুধা কিংবা অন্য বড় বড় সামাজিক সমস্যা নিয়ে কখনো ভেবেছেন?’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন