শেষ বাঁশির আগে গোল করে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্র ব্রাজিলের

৯৫ মিনিটে রায়ানের হেডে হার এড়াল ব্রাজিল। কুইন্সল্যান্ডের টাউন্সভিলে কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র কার্লো আনচেলত্তির দলের।সিবিএফ

অস্ট্রেলিয়া ১ : ১ ব্রাজিল

৯০ মিনিট পেরিয়ে গেল। যোগ করা সময় চার মিনিট। মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে আবার নতুন যুগের শুরুটা হয়তো হার দিয়েই লিখতে হবে ব্রাজিলকে। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো গল্প বদলাতে ভালোবাসে।

যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিট, রাফিনিয়ার কর্নার। বক্সের ভিড়ে উঠে এলেন রায়ান। জোরালো হেড। বল মাটিতে পড়ে উঠে জালে ঢুকে গেল। অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার প্যাট্রিক বিচ কিছুই করতে পারলেন না। ১-১ সমতায় শেষ ম্যাচ। শেষ বাঁশির আগে গোল করে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্র ব্রাজিলের।

কুইন্সল্যান্ডের টাউন্সভিলে কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে দুই দলই নেমেছিল বিশ্বকাপের হতাশা বুকে নিয়ে। শেষ ৩২-এ ছিটকে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া, শেষ ১৬-তে ছিটকে যাওয়া ব্রাজিল। কদিন ধরেই ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছিলেন, ‘ এবার নতুন যুগের শুরু।’

ব্রাজিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই খেলেছে অস্ট্রেলিয়া।
এএফপি


কিন্তু ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই বোঝা গেল, কথার চেয়ে মাঠের ভাষা অনেক বেশি কঠিন। ২ মিনিটেই প্রথম ধাক্কা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া। কনর মেটকাফের শট উড়ে গেল বারপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে। কিন্তু বার্তা দিয়ে গেল, তারা ভয় পায় না।

ব্রাজিলও চুপ করে থাকেনি। এস্তেভাও ডান দিক থেকে কাট ইন করে শট নিলেন। বাইরে চলে গেল। একটু পর রাফিনিয়ার চেষ্টা, সেটাও আটকে গেল ডিফ্লেকশনে। এরপর একবার এনদ্রিক বক্সে ঢুকে দারুণ ছন্দে এগোচ্ছিলেন। ১৯ বছর বয়সী লুকাস হ্যারিংটন শরীর ঠেকিয়ে ফেললেন তাঁকে। পড়ে গেলেন এনদ্রিক। ভিএআর দেখল, কিন্তু কিছুই হলো না।

তারপর এল সেই মুহূর্ত, যেটা হয়তো ম্যাচের গল্পই বদলে দিতে পারত।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল পেয়েছিল ব্রাজিল। এস্তেভাও আর এনদ্রিকে দারুণ বোঝাপড়ার পর শট জালে। কিন্তু আনন্দ টিকল না। ফাউলের কারণে বাতিল।  অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক সুটারের ওপর গিমারাইসের ফাউল ধরা হলো। স্কোরলাইন তখনো শূন্য।

অস্ট্রেলিয়ার গোল উদযাপন।
এএফপি


দ্বিতীয়ার্ধে নাটক আরও জমল। রাফিনিয়ার ক্রস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পায়ে সুযোগ এসেছিল। ভলি মারার ঠিক আগমুহূর্তে পা পিছলে গেল। সুযোগ হারাল ব্রাজিল।
তারপর রাফিনিয়ার শট। দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। ওপাশে এনদ্রিক আর এস্তেভাও তখন হাত তুলে অভিযোগ করছেন, ‘পাসটা এখানে দাও!’ কিন্তু তখন আর কিছু করার নেই।

৬৯ মিনিটে যেন বজ্রপাত ব্রাজিলেও ওপর। নেস্তরি ইরানকুন্ডার সরাসরি ফ্রি কিক। খুব বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল না। কিন্তু গোলকিপার উগো সুজা বলের গতিপথ ভুল পড়লে, শট জালে। অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। গ্যালারিতে তখন উল্লাস, আর ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মুখে চিন্তার রেখা।


আনচেলত্তি উঠে দাঁড়ালেন। একের পর এক বদলি হলো। ভিনিসিয়ুস, এনদ্রিক, এস্তেভাওরা মাঠ ছাড়লেন। নতুনদের নিয়ে শেষ চেষ্টা করতে চাইল ব্রাজিল। কিন্তু ছন্দ? কোথাও যেন হারিয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণও জমাট হচ্ছিল। আনচেলত্তিকে তখন ডাগআউট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়দের তাগাদা দিতে দেখা যায়। ৯০ মিনিটেও ব্রাজিলের সমতা ফেরানোর মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হয়নি।
তারপর ম্যাচের যখন একেবারে শেষ বাঁশির অপেক্ষা, সেই সময়ে রাফিনিয়ার কর্নার এবং রায়ানের গোল। যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল ব্রাজিলের!

আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় আরেকটি প্রীতি ম‍্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-অস্ট্রেলিয়া।