গার্দিওলার ইতালির কোচ হওয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেল

স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলাএএফপি

টানা তিনটি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে ছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। এবার যেকোনো মূল্যে দেশটির বিশ্বকাপ–ভাগ্য পরিবর্তন করতে উন্মুখ ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। আর সে পরিবর্তনে তারা কোচ হিসেবে চাইছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ পেপ গার্দিওলাকে। স্প্যানিশ এ কোচকে আনতে প্রয়োজনে প্রচলিত আর্থিক কাঠামোও ভাঙতে রাজি তারা।

ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে বার্সেলোনায় গিয়ে গার্দিওলার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেছেন। ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে গার্দিওলাকে নিয়োগ দিতে প্রয়োজনে আরও বেশি খরচ করতে প্রস্তুত দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি জিওভান্নি মালাগো নিশ্চিত করেছেন, ইতালির কোচের পদ নিয়ে ৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। টানা এক দশক দায়িত্ব পালনের পর গত মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ।

চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত এপ্রিলে প্রধান কোচের পদ ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে গার্দিওলাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন, যদিও তাঁকে নিয়োগ দিতে অন্যদের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে মালাগো ইতালীয় সংবাদমাধ্যম গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্তকে বলেন, ‘বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর এই মুহূর্তে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, পেপ গার্দিওলার ক্ষেত্রেও তেমন ব্যতিক্রম করা হতে পারে।’

মালাগো বলেন, ‘কেন এমন ব্যতিক্রম করা হতে পারে, তার কারণ ব্যাখ্যা করার জায়গা এটি নয়। তবে এটাও নিশ্চিত নয় যে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে।’

ম্যানচেস্টার সিটিকে একের পর এক শিরোপা জিতিয়েছেন পেপ গার্দিওলা
রয়টার্স

ইতালিকে ইউরো ২০২০-এর শিরোপা জেতানো সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনি এবং আজ্জুরিদের সাবেক মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোও ইতালির কোচ হওয়ার দৌড়ে আছেন। গার্দিওলা, মানচিনি ও পিরলো—তিনজনই কি সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন, এমন প্রশ্নে মালাগো বলেন, ‘একেবারেই তা নয়। আমরা নির্দিষ্ট ধরনের একজন কোচ খুঁজছি। এই নামগুলো অবশ্যই সেই ধরনের প্রার্থীদের মধ্যে পড়ে।’

এর আগে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্ব পালন করেছেন গার্দিওলা। গত মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। ক্লাবটির হয়ে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপ এবং একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইতালি
রয়টার্স

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং তাঁর উপদেষ্টা লিওনার্দো গত সপ্তাহান্তে বার্সেলোনায় গিয়ে সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে বৈঠক করেন।

তবে গত শুক্রবার ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দ্রুত কোচিংয়ে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গার্দিওলা, ‘মানসিকভাবে ফুটবলকে একটুও মিস করছি না। ৩৭ বছর বয়সে কোচিং শুরু করেছিলাম। এর পর থেকে পুরো জীবনটাই ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এখন আমি জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাই। ফুটবলের বাইরে অন্য কিছু করে সুখী হতে চাই।’

মালদিনি ও লিওনার্দোর সঙ্গে গার্দিওলার সম্পর্ক বেশ ভালো। এর আগে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো দাবি করেছিলেন, নতুন কোচ নিয়োগের ঘোষণা আসতে আর বেশি দেরি নেই। সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ‘নতুন কোচ কবে আসবেন? আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা।’

আরও পড়ুন

তবে ইতালির কোচ হিসেবে গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়া মোটেই সহজ হবে না। এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি দেশটিতেই বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির (সিওএনআই) সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিলিও গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, আজ্জুরিদের কোচ হওয়া উচিত একজন ইতালিয়ানেরই।

কোরিয়েরে দেল্লো স্পোর্তকে বুয়োনফিলিও বলেন, ‘জিওভান্নি মালাগোকে আমি কোনো পরামর্শ দিতে চাই না। নতুন এফআইজিসি সভাপতি হিসেবে তিনি খুব ভালো শুরু করেছেন। শুধু একটি অনুরোধ করব, ইতালি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে একজন ইতালিয়ানকেই নিয়োগ দিন।’

আরও পড়ুন

বিদেশি কোচ নিয়োগ দিলে ইতালির ঐতিহ্যবাহী কোচিং সংস্কৃতির মূল্য কমে যাবে বলেও মনে করেন বুয়োনফিলিও। তিনি বলেন, ‘সিরি ‘আ’-এর বেশির ভাগ কোচই ইতালিয়ান। জাতীয় দলের কোচকে তাঁদের সঙ্গেই কাজ করতে হবে। তাঁরা দক্ষ, পেশাদার ও আমাদের নিজস্ব ফুটবল ঐতিহ্যের অংশ। তাহলে তাঁদের বাদ দেওয়া হবে কেন?’

বিদেশি কোচের বিপক্ষে নিজের অবস্থানের পক্ষে অতীতের একটি অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন বুয়োনফিলিও, ‘ক্যানো ফেডারেশনের সভাপতি থাকাকালে আমি একজন জার্মান কোচ নিয়োগ দিয়ে ভুল করেছিলাম। তিনি ভালো কোচ ছিলেন, কিন্তু ইতালিয়ান মানসিকতাকে বোঝার কোনো চেষ্টা করেননি। আমরা কিছুই জিততে পারিনি। বরং এর আগে যে ভালো কাজগুলো হয়েছিল, সেগুলোও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’