২০ ম্যাচে কিংসের পয়েন্ট ৫১। ১৯ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আবাহনী। ২০ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সাইফ।

এর আগে পেশাদার লিগে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল শুধুই আবাহনীর। এবার বসুন্ধরা কিংসও হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হলো।

default-image

সাইফ স্পোর্টিংয়ের মাঠে তাদের বিপক্ষে ১০ জন নিয়েও হেসেখেলেই জিতল বসুন্ধরা কিংস। অথচ ম্যাচের ৩৪ মিনিটে যখন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ছিলেন বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার ইয়াসিন আরাফাত, কোচ অস্কার ব্রুজোনের চেহারায় ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বাকি ৫৬ মিনিটে অবশ্য ১০ জনের দল হয়ে পড়া বসুন্ধরাকে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণ সামলাতেই সতর্ক থাকতে হয়েছে বেশি।

পায়ের পেশিতে চোট লাগায় দলের বড় ভরসা ফরোয়ার্ড রবসন রবিনহোকে আজ মাঠেই নামাননি কোচ অস্কার ব্রুজোন। সেন্টারব্যাক খালেদ শাফিকেও একাদশে রাখেননি শুরুতে।

করোনা পজিটিভ হওয়া ইরানি ফুটবলার যদিও নেগেটিভ হয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দল হয়ে পড়া বসুন্ধরার রক্ষণ আরও জমাট করতে ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলমকে তুলে মাঠে নামান খালিদ শাফিকে।

৩ জুলাই আবাহনীকে এই মাঠেই ৪-২ গোলে হারিয়েছিল সাইফ। কিন্তু বসুন্ধরা কিংসের জন্য আজ কোনো হুমকিই হতে পারেনি জামাল ভূঁইয়ারা। বরং নুহা মারং, মিগেল ফেরেইরা, মতিন মিয়া, বিপলু আহমেদদের আক্রমণ সামলাতে দিশাহারায় দেখা গেল সাইফ স্পোর্টিংকে।

পুরো ম্যাচে সাইফের বলার মতো আক্রমণ ছিল একটাই, ৭৫ মিনিটে মারাজ হোসেনের জোরালো শট ফিস্ট করে ফেরান বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান।

ম্যাচের ২২ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বসুন্ধরা কিংস। বিশ্বনাথের বাড়িয়ে দেওয়া লং বল তৌহিদুল আলম পেছনে থাকা মিগুয়েল ফেরেইরারকে বাড়িয়ে দেন। ফেরেইরার আগুনে গোলা শট অবশ্য ক্রসবারে লেগে ফেরে!

এরপর ২৮ মিনিটে মতিন মিয়ার গোল। এবার বলের জোগানদাতা ফেরেইরা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট জামাল ভূঁইয়ার গায়ে লেগে ফেরে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মতিন মিয়া ডান পায়ের প্লেসিংয়ে করেন গোল। অবশ্য মতিনের সামনে থাকা সাইফের ডিফেন্ডার সাদ্দাম হোসেন অবশ্য ক্লিয়ার করতে পারেননি বলটা।

default-image

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ইয়াসিন অহেতুক ট্যাকল করে রহিম উদ্দিনকে ফেলে দেন। ৯ মিনিটে হলুদ কার্ড পাওয়া ইয়াসিন এবার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা কিংস আরও বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে। ৮১ মিনিটে বিপলুর গোলটি সেই আক্রমণের ফল। নুহা মারংয়ের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে করেছেন ২-০।

ম্যাচ শেষে বরাবরের মতোই চ্যাম্পিয়ন লেখা জার্সি পরে মাঠের মধ্যে উৎসবে মেতে ওঠে বসুন্ধরার খেলোয়াড় , কোচ ও কর্মকর্তারা। আর একই জার্সি পরে সেই মিছিলে মিশে গেলেন সমর্থকেরাও।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন