আর্জেন্টিনার জার্সিতে বাবা–ছেলের গোল: পাবলোর পর এবার নিকো
ফ্রি–কিক থেকে নিকো পাজ গোলটি করার পর লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটে নিজের আসন ছেড়ে উঠে গেলেন মেসির কাছে। তাঁকে কানে কানে কিছু একটা বললেন। রসিকতার ছলে কেউ কেউ হয়তো ভেবে নিতে পারেন, আর্জেন্টিনা কোচ সম্ভবত মেসিকে বলেছেন, ‘এখন থেকে তোমার আর ফ্রি–কিক নেওয়ার দরকার নেই...।’
ফ্রি–কিকটি এত ভালো ছিল না যে সত্যি সত্যিই এমন কিছু ভেবে নিতে হবে। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম গোলটি যদি আসে কুশলী এক ফ্রি–কিক থেকে এবং সেটাও যদি করা হয় মেসিকে সাক্ষী রেখে—তাহলে গোলটি অবশ্যই বিশেষ কিছুই। নিচু বাঁকানো শটে করা পাজ যেন মেসির ফ্রি–কিক থেকে করা কিছু গোলকেই স্মরণ করিয়ে দেন।
তবে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের এই গোলে স্মরণ করতে হয় আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসও। সমৃদ্ধ সেই ইতিহাসের একটি পাতার নাম ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে বাবা ও ছেলের গোল’। পাজ বিশেষ এই তালিকাতেই নাম লিখিয়েছেন আজ মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–১ গোলে জয়ের প্রীতি ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করে।
নিকো পাজের বাবা পাবলো পাজও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলেছেন। সাবেক এই সেন্টারব্যাক আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৪ ম্যাচে করেন ১ গোল। খেলেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপে। সে বিশ্বকাপের বাছাইয়ে ১৯৯৭ সালের ২০ জুলাই ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোলটি করেছিলেন পাবলো পাজ।
আর্জেন্টিনার হয়ে বাবা–ছেলের গোল এ তালিকায় পাজদের আগে নাম লিখিয়েছে সিমিওনে পরিবার। আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনেকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আসলে কিছু নেই। আর্জেন্টিনার হয়ে ১০৫ ম্যাচ খেলা সাবেক এ ডিফেন্ডার ১০ গোল করেছেন জাতীয় দলের জার্সিতে। তাঁর ছেলে নাপোলি স্ট্রাইকার জিওভান্নি সিমিওনে আর্জেন্টিনার হয়ে ৬ ম্যাচে করেছেন ১ গোল। আরেক ছেলে জুলিয়ানো সিমিওনে আতলেতিকো থেকে ধারে খেলছেন আলাভেসে। জুলিয়ানোও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১০ ম্যাচে করেছেন ১ গোল।
সিমিওনে পরিবারের আগে বংশপরম্পরায় গোল করার এই বিরল উদাহরণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে খুব একটা নেই। গালেত্তি পরিবারের প্রসঙ্গ আসতে পারে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘এল গ্রাফিকো’ জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালে জাতীয় দলের হয়ে গোল করেন সাবেক রাইট উইঙ্গার রুবেন গালেত্তি। তাঁর ছেলে লুসিয়ানো গালেত্তিও ছিলেন রাইট উইঙ্গার। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে ৩ গোল করেন লুসিয়ানো।
তবে রুবেন ও লুসিয়ানো গোল নয়, অন্য এক কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবলে বেশি পরিচিত। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায় লুসিয়ানোর কিডনি বিকল হয়ে পড়েছে। পরের বছর মাত্র ৩০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লুসিয়ানো। কিন্তু ঘটনার আরও বাকি ছিল তখনো। ২০১২ সালের অক্টোবরে সফলভাবে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। লুসিয়ানোর জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেছিলেন তাঁর বাবা রুবেন গালেত্তি।
আর্জেন্টাইন ফুটবলে এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের দুই প্রজন্ম জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। তবে সবার ভাগ্যে গালেত্তি পরিবারের মতো গোল করার আনন্দ জোটেনি। কেউ পেয়েছেন গোল, কেউ থেকেছেন গোলশূন্য।
‘দে লা মাতা’ পরিবারে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে ভিসেন্তে দে লা মাতা আর্জেন্টিনার হয়ে করেছিলেন ৬ গোল। কিন্তু তাঁর ছেলের নামও ভিসেন্তে দে লা মাতা। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত জাতীয় দলে ভিসেন্তে ৬ ম্যাচ খেললেও গোল পাননি। একই চিত্র ভেরন পরিবারেও। আর্জেন্টিনার সাবেক মিডফিল্ডার হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন ৭১ ম্যাচে ৯ গোল করলেও তাঁর বাবা হুয়ান রামন ভেরন জাতীয় দলের হয়ে কখনো গোল পাননি।
সোলারি পরিবারের প্রসঙ্গও আসতে পারে। ছেলে সান্তিয়াগো সোলারি আর্জেন্টিনার জার্সিতে গোল পেলেও তাঁর বাবা এদুয়ার্দোকে গোলশূন্য থাকতে হয়। ম্যাক অ্যালিস্টার পরিবারে বাবা কার্লোস গোলহীন থাকলেও ছেলে অ্যালেক্সিস ইতিমধ্যেই ৬ গোল করেছেন। পেরোত্তি পরিবার এ ক্ষেত্রে আলাদা। বাবা হুগো ও ছেলে ডিয়েগো জাতীয় দলে খেললেও কেউ গোল পাননি।