আর্সেনালকে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম শিরোপা সিটির
ম্যানচেস্টার সিটি ২-০ আর্সেনাল
গোলকিপার ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন।
ম্যাচের ৭ মিনিটে গোলকিপার জেমস ট্রাফোর্ডের ‘ট্রিপল সেভ’-এ নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। ৬০ মিনিটে সিটির অপরপ্রান্তে দেখা গেল উল্টো দৃশ্য। সিটি মিডফিল্ডার রায়ান চেরকি ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে গোলে শট নেন। আর্সেনাল গোলকিপার কেপা আরিজাবালাগার জন্য সেটা হওয়ার কথা ছিল সহজ সেভ। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বলটা কেপার হাত ফসকে পেছনে চলে যায়। প্রায় ফাঁকা পোস্টে হেডে গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন নিকো ও’রাইলি।
কেপার ওই একটি ভুলে সিটির দ্বিতীয় গোলের দরজাও খুলে যায় চার মিনিট পরই। এবারও সেই ডান প্রান্ত, তবে কেপার মাথার ওপর দিয়ে ক্রস দেন ম্যাথিয়াস নুনেস। কিন্তু গোলদাতা একই; আর্সেনালের ডিফেন্ডারদের মধ্যে বক্সে প্রায় ফাঁকায় দাঁড়ানো নিকো ও’রাইলির হেড জাল খুঁজে নেয়। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে প্রায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে কারাবাও কাপের ফাইনাল জিতেছে সিটি।
নিকোর দ্বিতীয় গোলের পর আনন্দে সাইডলাইন দিয়ে অন্তত ২০ গজ দৌড়ান সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। ২০২১ সালের পর লিগ কাপের (স্পনসরের কারণে অফিশিয়াল নাম কারাবাও কাপ) শিরোপাটা পুনরুদ্ধার হচ্ছে, সম্ভবত তখনই টের পেয়েছিলেন। পাশাপাশি মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের শিহরণও একটু অন্যরকম। গার্দিওলা নিজেও পঞ্চমবারের মতো এই টুর্নামেন্ট জেতা প্রথম কোচের রেকর্ড গড়লেন। সব মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে সিটির নবম শিরোপা জয় বেশ সাম্প্রতিক দুঃস্বপ্নকেও পেছনে ফেলল।
রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে। প্রায় দুই বছরের মধ্যে সিটির কেবিনেটে বড় কোনো শিরোপাও ছিল না। নিকোর জোড়া গোলে এই খরা কাটানোর পাশাপাশি আরেকটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও এগিয়ে গেল সিটি। প্রিমিয়ার লিগে আগামী ১৯ এপ্রিল আর্সেনালের মুখোমুখি হবে তাঁরা। ৯ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে সিটিকে দুইয়ে ঠেলে শীর্ষে আর্সেনাল। সিটির হাতে আছে ৮ ম্যাচ, আর্সেনালের ৭।
অথচ আর্সেনালই ফাইনালে এগিয়ে যেতে পারত। ৭ মিনিটে কাই হাভার্টজ বক্সে ঢুকে খুব কাছ থেকে ট্রাফোর্ডকে ফাঁকি দিতে পারেননি। ফিরতি বলে বুকায়ো সাকার দুটি শটও রুখে দেন অবিশ্বাস্যভাবে। আর্সেনাল বিরতির পরও গোলের সুযোগ পেয়েছে। ভাগ্য সহায় ছিল না। সেন্টার ব্যাক রিকার্ডো কালাফিওরির ভলি পোস্টে লেগেছে। ক্রসবারে লাগে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের হেড।