সিটির শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়া উচিত: স্টিভেন জেরার্ড

লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডরয়টার্স

স্টিভেন জেরার্ডের সোজা কথা—‘ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়া উচিত।’

ইংল্যান্ড ও লিভারপুল কিংবদন্তি কেন এ কথা বলেছেন, তা এতক্ষণে আন্দাজ করে নেওয়ার কথা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১০০টির বেশি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিটি। পয়েন্ট কাটা থেকে শুরু করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন, এমনকি নির্বাসনের খড়্গও ঝুলছে সিটির মাথার ওপর। জেরার্ডের মতে, সিটির নিয়ম ভাঙার ঘটনার পর এমন একটি ‘দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত’, যা অন্যদের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকে।

সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যকার সময়ের। জেরার্ড এ সময়ের মধ্যেই (২০১৫) লিভারপুল ছাড়েন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে তাঁর অধিনায়কত্বে লিভারপুল লিগ টেবিলের রানার্স-আপ হয়েছিল এবং সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি।

সিটি অবশ্য সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

কঠিন সময় সিটির সামনে
রয়টার্স

ম্যানচেস্টারের ক্লাবটির কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত—জেরার্ডের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ‘দ্য ওভারল্যাপ’ পডকাস্টে। উত্তরে কোনো রাখঢাক রাখেননি ইংল্যান্ড ও লিভারপুলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এ ফুটবলার। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত সেই সময়ে সিটি অন্য দলগুলোকে যেভাবে ভুগিয়েছে, একইভাবে তাদেরও অবশ্যই ‘ভোগান্তি’ পোহাতে বাধ্য করা উচিত।

জেরার্ডের ভাষায়, ‘আমার অনুভূতির কথা যদি বলেন, আমার ওপরও এর সম্ভাব্য প্রভাব থাকতে পারে। তবে আমি চাই না কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে তাদের পদক বা স্মারক ফেরত দিক, সেটা ঠিক হবে না।’

আরও পড়ুন

লিভারপুল কিংবদন্তি বলে যান, ‘কিন্তু তাদের শিরোপাগুলো কেড়ে নিতে হবে। একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার। অতীতে তাদের অর্জিত সাফল্যগুলোর পাশে কোনো তারকাচিহ্ন বা অন্য কিছু যুক্ত করা হোক, যাতে শিরোপা কেড়ে নেওয়া হোক বা না হোক—তা আর কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ, একবার সেই চিহ্ন বসে গেলে সবাই জেনে যাবে যে আমরা যা জানি, ঠিক সে কারণে সেই সাফল্য এসেছে।’

জেরার্ড এখানেই থামেননি। আগামীর দিনগুলোতে সিটির আরও কী কী শাস্তি হওয়া উচিত, সেসবও বলেছেন, ‘সঠিক শাস্তিটা কী তা আমি জানি না...তারা নামতে বাধ্য হলে চ্যাম্পিয়নশিপের দলগুলোর প্রতি অবিচার হবে, কারণ তখন তারা ওপরের স্তরে উঠে আসা তিন দলের একটি হবে। এতে চ্যাম্পিয়নশিপের একটা কোটা নষ্ট হবে এবং সেটা ইএফএলের (ইংলিশ ফুটবল লিগ) দলগুলোর প্রতিও অবিচার হবে। অথবা প্রতি সপ্তাহে যারা সিটির বিরুদ্ধে খেলছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’

লিভারপুলেই ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় কাটিয়েছেন জেরার্ড
লিভারপুল ওয়েবসাইট

বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে লিভারপুলে ২৬ বছর কাটানো জেরার্ড মনে করেন, সিটির দীর্ঘমেয়াদি শাস্তি হওয়া উচিত, যা কয়েক বছর কার্যকর থাকবে। কিংবদন্তির ভাষায়, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত মত, বলছি না এটাই সঠিক মত, তবে আমি এভাবেই অনুভব করছি। আমার মনে হয়, একটা দলবদল নিষেধাজ্ঞা (ট্রান্সফার ব্যান) এবং দীর্ঘ সময় ধরে পয়েন্ট কাটা উচিত। তারা গত নয়-দশ বছর সবাইকে যেভাবে ভুগিয়েছে, তাদেরও ঠিক সেভাবে ভোগাতে হবে।’

আপিলপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপে সিটি দোষী প্রমাণিত হলে ক্লাবটির সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই নিজেদের কাজের ফল ভোগ করতে হবে বলে মনে করেন ৪৬ বছর বয়সী জেরার্ড। তবে এটাও জানিয়েছেন, সিটির খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কারণ তারা সবাই অসাধারণ খেলোয়াড়। তারা মুহূর্তগুলো উপভোগ করেছে এবং ট্রফিগুলো তাদের প্রাপ্য ছিল।’

লিভারপুল ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সিতে দুই বছর খেলেন জেরার্ড। এরপর নেমেছিলেন কোচিংয়েও। লিভারপুলের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর রেঞ্জার্স, অ্যাস্টন ভিলা ও সৌদি ক্লাব আল–ইত্তিফাকের কোচ হন। গত বছর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সৌদি ক্লাবটির দায়িত্ব ছাড়েন জেরার্ড।