তাঁর এই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে জার্মানিতে। শ্যাফার্ত এখন তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, ‘আমি আসলে জার্মান দলকে ঠিক বানর বলিনি। “বানরছানার দল” বলতে আমি তিন বানরের মুখ ঢাকা সেই ছবিটি (ওয়াইজ মাঙ্কি) বোঝাচ্ছিলাম।’

নিজের বক্তব্যের ব্যখ্যায় তিনি বলেছেন, ‘আমি বলতে চেয়েছিলাম জার্মান দল সেদিন যা করেছে, সেটি কাতারের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। আমি অবশ্য নিজে কাতারে যাইনি। আমি টিভিতে দেখেছি পুরো বিষয়টি। আমি “বানরছানা” বলতে বুঝিয়েছি সেই তিনটি বানরছানার ছবিটি।’ শ্যাফার্ত অবশ্য তাঁর বাক্য চয়নের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

কাতার বিশ্বকাপের শুরুর দিকে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিভিন্ন নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিল। এর মধ্যে ছিল সমকামিতা। কাতারে সমকামিতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কেন—এ নিয়েই সমালোচনাটা ছিল ইউরোপীয় দেশগুলোর।

বিশ্বকাপের আগে এটি নিয়ে ইউরোপের বেশ কয়েকটি এলজিবিটি সংস্থাও প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই প্রতিবাদে নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মানির মতো দেশগুলো এলজিবিটি সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

এর অংশ হিসেবে ‘ওয়ান লাভ’ নামের বিশেষ একটি আর্মব্যান্ড পরে খেলতে চেয়েছিল তারা। ফিফা সেই ব্যান্ড পরে খেলার অনুমতি না দেওয়াতেই জার্মান দল মুখ ঢেকে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ফিফা জানিয়েছিল বিশ্বকাপ যে দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সে দেশের আইন ও নিয়মনীতির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিশেষ সেই আর্মব্যান্ড পরলে হলুদ কার্ডও দেখতে হতে পারে অধিনায়কদের—এমন হুমকিও দিয়েছিল ফিফা। এমন হুমকিতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছিল ইউরোপের দেশগুলো। ইংল্যান্ড, ওয়েলসের মতো দেশগুলো নিজেদের ম্যাচে তা মেনেও চলেছে।