আর্জেন্টিনার সামনে ‘মরুর শিয়াল’
‘ফানাক’ শব্দটা শুনেছেন কখনো?
আরবি শব্দটার বাংলায় অর্থ মরুভূমির শিয়াল। আকারে ছোট, কিন্তু ভীষণ ধূর্ত, শিকার ধরতে ওস্তাদ।
আলজেরিয়া ফুটবল দলের ডাকনাম হচ্ছে এই ‘ফানাক’। নামে বা ধারে হয়তো আফ্রিকার দেশটি ফুটবলের পরাশক্তি নয় কোনোভাবেই, কিন্তু মরুর শিয়ালের মতো তারা চমকে দিতে পারে বড় কোনো প্রতিপক্ষকে। আজ কানসাস সিটিতে সেই প্রতিপক্ষের নাম লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
ইতিহাস বলে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা আলজেরিয়ার আছে। ১৯৮২ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তখন গ্রুপের সব ম্যাচ একই দিনে হতো না। আলজেরিয়া তাদের শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছিল আগেই। শেষ ম্যাচে জার্মানি অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারালে দুই দলই উঠে যেত পরের পর্বে। আর গোল ব্যবধানে বাদ পড়ে যেত আলজেরিয়া। সেই ফলটাই হলো এমন ন্যক্কারজনকভাবে, জার্মানির ১-০ গোলে জয়ের সেই ম্যাচকে বলা হয় ‘গিহনের লজ্জা’। এরপর থেকে গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে শুরু করার নিয়মও সেই কেলেঙ্কারির কারণেই।
২০১৪ বিশ্বকাপে আবার সেই জার্মানিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল আলজেরিয়া। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেনি। এরপরের দুই বিশ্বকাপ দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে। দুবারই খুব কাছে গিয়েও হয়েছে স্বপ্নভঙ্গ। ২০১৯ সালে আফ্রিকান নেশনস কাপ জেতার পর যে নতুন সূর্যোদয়ের আভাস পেয়েছিল আলজেরিয়া, সেটিও শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে গেছে দিগন্তে। ২০২১ ও ২০২৩ সালের আফকনে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়। অস্থিরতা ও পরিচয়সংকটে ভোগা দলকে আবার কক্ষপথে ফিরিয়ে এনেছেন কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ।
আগের দুই আসরে না পারলেও এই বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার আর কোনো কাঠখড় পোড়াতে হয়নি, বাছাইপর্ব উতরেছে সহজেই। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। আলজেরিয়ার এই দলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন অবশ্যই রিয়াদ মাহরেজ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা। সৌদি লিগে খেলা মাহরেজ হয়তো সেরা সময়টা পেছনে ফেলে এসেছেন, তবে ডান প্রান্তে এখনো তিনি দলের বড় ভরসা।
এই আলজেরিয়া দলের গোপন অস্ত্র হতে পারেন ২০ বছর বয়সী ইব্রাহিম মাজা নামের তরুণ মিডফিল্ডার। জার্মান ক্লাব লেভারকুসেনের হয়ে এই মৌসুমে আলো ছড়িয়েছেন। এর মধ্যেই তাঁর দিকে চোখ পড়েছে বড় ক্লাবের। রক্ষণে আছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা লেফটব্যাক রায়ান আইত নূরি, যাঁর গতি আর্জেন্টিনার রাইটব্যাক মলিনা বা মন্তিয়েলের জন্য চিন্তার বড় কারণ হতে পারে। ডর্টমুন্ডের বেনসেবানি আছেন রক্ষণে বড় ভরসা হয়ে। আর গোলপোস্টের নিচে আছেন লুকা জিদান। দাঁড়ান, নামটা পরিচিত লাগছে না? হ্যাঁ, তিনি জিনেদিন জিদানের ছেলে। বাবা ফ্রান্সকে বেছে নিলেও ছেলে এখন পূর্বপুরুষের দেশের গোলপোস্টের প্রহরী। এপ্রিলে বাজে এক চোটে চোয়ালের হাড় ভেঙে গেলেও লুকা আবার ফিরেছেন পোস্টের নিচে।
ইতিহাস আর ফর্ম বলছে, আর্জেন্টিনার জন্য আলজেরিয়া সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। ‘ফানাক’ বা মরুর শিয়াল তা হয় নাকি!