২০ বছর ধরে খেলছি, কিন্তু এই প্রথমবার লজ্জা লাগছে—৭ গোল খেয়ে হারের পর মদরিচ

হতাশ লুকা মদরিচএএফপি

একটা দলের ইতিহাসে কিছু হার শুধু পরাজয় হয়ে থাকে না। হয়ে ওঠে দুঃসহ স্মৃতি। ক্রোয়েশিয়ার জন্য কালকের রাতটা তেমনই। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে নিজেদের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় হারের লজ্জার রেকর্ড গড়েছে তারা। ম্যাচ শেষে লুকা মদরিচের ভালো লাগার কথা নয়। সেটা স্পষ্ট হলো ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তির কথায়।

নেশনস লিগের এ ম্যাচে ক্রোয়াটদের জালে হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা দুটি করে গোল করেন। অ্যান্থনি গর্ডন, জুড বেলিংহাম ও মরগান রজার্স একটি করে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান।

১৯৯১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর এটাই ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। মাঠে দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা লুকাতে পারেননি মদরিচ। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে ২০ বছর ধরে খেলছি। কিন্তু ম্যাচের পর এই প্রথমবার নিজেকে লজ্জিত মনে হলো।’

মদরিচ অবশ্য ইংল্যান্ডের শক্তির কথাও স্বীকার করলেন। তবে এমন হারের কোনো অজুহাত দেখাননি, ‘আপনি হারতে পারেন। আপনার চেয়ে ভালো দলের বিপক্ষে হারতেই পারেন। এই মুহূর্তে তারা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু যেভাবেই হোক, এভাবে হারা এবং বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা সুনাম নষ্ট করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি লজ্জিত।’

১৯৯১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর এটাই ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার
এএফপি

ইংল্যান্ডের কাছে এই হার ক্রোয়েশিয়ার জন্য আরও কষ্টের। ২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকেই হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়ে সেই টুর্নামেন্ট শেষ করে ক্রোয়েশিয়া।

সেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ব্যালন ডি’অর জেতেন মদরিচ। চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপেও দলকে তৃতীয় হতে বড় ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন

ইংল্যান্ডের কাছে হারের আগে গত মঙ্গলবার স্পেনের বিপক্ষেও ৪-১ গোলে হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। সর্বশেষ তিন ম্যাচে ১২ গোল হজম করল বলকান অঞ্চলের দেশটি।

কোচ স্লাভেন বিলিচ দলের এমন পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বলেন, ‘এই মৌসুমে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কিছু সমস্যা ছিল। অবশ্যই ছিল। কিন্তু দায় আমারই। কেন এমন হলো, সেটা আলাদা করে বলার চেষ্টা করে লাভ নেই। পুরো দল সম্মিলিতভাবে খেই হারিয়ে ফেলেছে।’

এ মুহূর্তে ইতিবাচক কিছু বলা কঠিন বলেও স্বীকার করেন বিলিচ, ‘এমন ম্যাচের পর ইতিবাচক কিছু বলা কঠিন। আমরা হতাশ। আমি হতাশ। সবাই দুঃখিত। সমর্থকদের জন্য খারাপ লাগছে। আমাদের জন্য এবং খেলোয়াড়দের জন্যও খারাপ লাগছে। বিশ্বাস করুন, এই মুহূর্তে আমাদের চেয়ে বেশি কষ্ট কেউ পাচ্ছে না। তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে।’

পরিস্থিতি সামলানোর জন্য খুব বেশি সময়ও পাচ্ছে না ক্রোয়েশিয়া। আন্তর্জাতিক বিরতিতে শেষ ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হতে হবে।

আরও পড়ুন