ঢাকায় আজ শুরু হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দাপুটে এক জয় দিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ। রুমা আক্তার, তৃষ্ণা রানীরা প্রথম ম্যাচে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভুটানকে। হ্যাটট্রিক করেছে সুরভী আকন্দ। জোড়া গোল করেছে উমেহ্লা মারমা। ১টি করে গোল করেছে থুইনু মারমা, জয়নব বিবি ও কানন রানী বাহাদুর।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে সাবিনা খাতুনেরা ভুটানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। ওই ম্যাচে প্রথমার্ধে ৪-০ তে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের মেয়েরা জয় উদ্‌যাপন করে লিপস্টিক মেখে। সেই জয় থেকেই যেন আজ অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছে রুমা, সুরভীরা।

অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফে ভুটানের বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের। এর আগে ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে ভুটানকে ৫-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এই আসরে বাংলাদেশের এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। ২০১৮ সালের সাফে পাকিস্তানের জালে গুনে গুনে ১৪ গোল দিয়েছিল বাংলাদেশ।

মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এটি চতুর্থ আসর। ২০১৭ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুইবারই বাংলাদেশ হয়েছে রানার্সআপ। গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশকে নিয়ে হচ্ছে তিন জাতির টুর্নামেন্ট। রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলটি হবে চ্যাম্পিয়ন।

ফেবারিট বাংলাদেশ অবশ্য পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়েই টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। এই বাংলাদেশ দলের ২৩ জনের মধ্যে শুধু জয়নব বিবির আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু একাদশের বাকি খেলোয়াড়দের খেলা দেখে মোটেও মনে হয়নি যে প্রথমবার খেলতে নেমেছে।

তৃষ্ণা, থুইনুদের পাসিং, মুভমেন্ট, ড্রিবলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে ম্যাচে। বাংলাদেশের মতো ভুটানের মেয়েরাও প্রথমবার খেলতে নামে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে। কিন্তু ফিটনেস, স্কিল, বল পজেশন—সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই ভুটানের অর্ধে ছিল বল। বাংলাদেশের গোলরক্ষক সঙ্গীতা রানী দাস বলতে গেলে অলস সময়ই কাটিয়েছে পোস্টের নিচে।  

ম্যাচের শুরুর কয়েক মিনিট আক্রমণে উঠলেও বাংলাদেশের মেয়েরা অফসাইডের ফাঁদটা যেন বুঝতেই পারছিল না! কিন্তু কিছুক্ষণ পরই নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। ৭ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢোকে উমেহ্লা মারমা। নুসরাত জাহানের বাড়িয়ে দেওয়া বলে প্লেসিংয়ে করে ১-০। ম্যাচের ২২ মিনিটে থুইনু মারমা করেছে ২-০। পুরো ম্যাচের সবচেয়ে দর্শনীয় গোলটি করেছে জয়নব বিবি। ২৮ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে শট নেয় এই ডিফেন্ডার। ভুটানের গোলরক্ষক দীক্ষা রায় কিছু বুঝতেই পারেনি। তার মাথার ওপর দিয়ে বল ঢোকে জালে।

প্রথমার্ধে ৩-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। পরের অর্ধে বাংলাদেশের মেয়েদের গোলের ক্ষুধা যেন আরও বেড়েছে। দ্বিতীয়ার্ধটা পুরোটাই ছিল বদলি হিসেবে খেলতে নামা সুরভীর। ৫০ মিনিটে স্কোর ৪-০ করে কানন রানী বাহাদুর। এরপর ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ম্যাচের পঞ্চম গোল দিয়ে গোল-উৎসব শুরু করে সুরভী। ৭৩ মিনিটে ভুটানের গোলরক্ষক দীক্ষার হাত–ফেরত বল থেকে সুরভী করেছে ৬-০। এরপর বক্সের মধ্যে জটলা থেকে সপ্তম গোলটি করে উমেহ্লা। এরপর যোগ হওয়া সময়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছে সুরভী।

বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৫ নভেম্বর, প্রতিপক্ষ নেপাল।