চ্যাম্পিয়নস লিগে ‘বুড়ো’দের গোলের তালিকায় জেকো কোথায়

ইন্টার মিলান তারকা এডিন জেকোছবি: এএফপি

দুই মিলান যখন মুখোমুখি হয়, তখন ইতালি নাকি থেমে যায়! কাল রাতে সান সিরোর লড়াই দেখে কথাটা আবারও মনে পড়তে পারে। ৭৬ হাজার আসনের সান সিরো ইতালির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। সংবাদমাধ্যম ‘রিপাবলিকা’ জানিয়েছে, ‘মিলান ডার্বি’ দেখতে টিকিটের যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছিল, তাতে সান সিরোকে অন্তত ২৬বার ‘হাউজফুল’ কানায় কানায় পূর্ণ করা যায়!

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে ২০ বছর পর মুখোমুখি দুই প্রতিবেশী—ইতালিয়ান ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কারণটা পরিস্কার। আর আগ্রহের এই ম্যাচেই ইতালিয়ান ফুটবলের সেরা ‘কলোসিয়াম’–এ এডিন জেকো বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়সটা এখনো তাঁর কাছে স্রেফ সংখ্যা।

আরও পড়ুন

প্রথম লেগে এসি মিলানের বিপক্ষে ইন্টার মিলানের ২–০ গোলের জয়ে প্রথম গোলটি জেকোর। আর এর মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার দৌড়ে লুকা মদরিচকে ছুঁয়ে ফেলেন বসনিয়া–হার্জেগোভেনিয়ার এ স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগের এ মৌসুমে গ্রুপপর্বে সেল্টিকের বিপক্ষে ৩৭ বছর ৫৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের চিরসবুজ মিডফিল্ডার মদরিচ।

রিয়াল মাদ্রিদ তারকা লুকা মদরিচ
ছবি: টুইটার

ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘স্কুয়াকা লাইভ’এর দাবি অনুযায়ী, কাল রাতে জেকোও গোল করেছেন মদরিচের মতোই ৩৭ বছর ৫৪ দিন বয়সে! অর্থাৎ, চ্যাম্পিয়নস লিগের এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত মদরিচ ও জেকোই সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।

তবে ‘ট্রান্সফারমার্কেট’ এর দাবি অনুযায়ী, মদরিচকে টপকে যেতে পারেননি জেকো। সেল্টিকের বিপক্ষে সেই গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার তালিকায় পাঁচে উঠে আসেন মদরিচ। ট্রান্সফারমার্কেট এর দাবি অনুযায়ী, গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর সেল্টিকের বিপক্ষে ম্যাচের দিন মদরিচের বয়স ছিল ৩৭ বছর ১ মাস ২৪ দিন। ঝামেলাটা বেঁধেছে জেকোর বয়স নিয়ে। জেকো কাল রাতে ৩৭ বছর ১ মাস ২৩ দিন বয়সে গোল করেছেন বলে দাবি করেছে ট্রান্সফারমার্কেট। অর্থাৎ, ব্যবধানটা মাত্র ১ দিনের!

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

তবে এ ব্যবধানে কিছুই যায় আসে না। বয়স যাই হোক দলের হয়ে গোল করাই তো আসল। জেকো সেদিক বিচারে ৩০ বছর পার করে নিজের জাত চেনাচ্ছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। ‘স্কুয়াকা’ জানিয়েছে, মাত্র ৭জন খেলোয়াড় বয়স ত্রিশ পার করে চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্তত ২০ গোল করেছেন। নামগুলো একবার দেখুন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, রবার্ট লেভানডফস্কি, করিম বেনজেমা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, দিদিয়ের দ্রগবা ও এডিন জেকো। অন্তত চ্যাম্পিয়নস লিগে বসনিয়ান তারকার ‘ক্লাস’ এই তালিকা থেকে বুঝে নেওয়া যায়।

তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে শুধু সেমিফাইনাল হিসেব করলে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতাদের তালিকায় জেকো আরও ওপরে থাকবেন। ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘অপটা অ্যানালিস্ট’ জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় জেকো। স্কুয়াকার মতো অপটাও জেকোর বয়স ৩৭ বছর ৫৪ দিন ধরে জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে তাঁর চেয়ে বেশি বয়সে শুধু একজন খেলোয়াড়ই গোল পেয়েছেন—রায়ান গিগস। ২০১১ সালে শালকের বিপক্ষে প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি গিগস গোল করেছিলেন ৩৭ বছর ১৪৮ দিন বয়সে।

আরও পড়ুন

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলের রেকর্ড ফ্রান্সেসকো টট্টির। ২০১৪ সালে সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে ৩৮ বছর ১ মাস ২৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন রোমের ‘সম্রাট’খ্যাত এএস রোমা কিংবদন্তি।

পরের তিনটি নাম যথাক্রমে রায়ান গিগস (৩৭ বছর ৯ মাস ১৬ দিন), ফিলিপ্পো ইনজাঘি (৩৭ বছর ২ মাস ২৫ দিন) ও হাভিয়ের জানেত্তি (৩৭ বছর ২ মাস ১০ দিন)। এই মৌসুমে সেল্টিকের বিপক্ষে গোল তালিকাটির পাঁচে উঠে আসেন মদরিচ। আর কাল রাতে গোল করে এই তালিকার ছয়ে উঠে এসেছেন জেকো।