টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১১ নভেম্বর। নেপালের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ২-০ গোলের ব্যবধানে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ।

৫ নভেম্বর নেপালের কাছে হারের পর সুরভির মনটা ছিল ভীষণ খারাপ। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই জেতা জরুরি বাংলাদেশের। কিন্তু প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেলেও নেপালের বিপক্ষে তাকে একাদশে রাখেননি কোচ। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেও নেপালের বিপক্ষে গোল করতে পারেনি সুরভি।

ভুটানের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেও বদলি হিসেবে নামে এই স্ট্রাইকার। মাঠে নেমে ২২ মিনিটের ব্যবধানে সেদিন হ্যাটট্রিক করে সুরভি। এরপরও নেপালের বিপক্ষে একাদশে ছিল না সুরভির নাম। সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশকে হেরে।

তাই তো বাধ্য হয়েই সুরভিকে আজ শুরু থেকে খেলিয়েছেন কোচ। নেপালের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে অবশ্য আজ চারটি পরিবর্তন আনেন তিনি। সুরভি ছাড়াও পূজা দাস, অনন্যা মুর্মু ও সুলতানা আক্তারকে দলে ঢোকান গোলাম রব্বানী। অবশ্য পূজা, অনন্যার চেয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছে সুরভি।

পুরো ম্যাচে যেন সুরভিকে ঠেকাতেই সারাক্ষণ ব্যতিব্যস্ত রইল ভুটানি ডিফেন্ডাররা। বল নিয়ে বক্সে ঢুকলেই গোল পেয়েছে সুরভি। বাংলাদেশের পোস্টে খুব কম সময়ই বল এসেছে। বেশির ভাগ সময়ই বাংলাদেশের গোলরক্ষক সঙ্গীতা রানী দাস অলস সময় কাটিয়েছে।

১৬ মিনিটে গোল উৎসবের শুরু হয় বাংলাদেশের। নুসরাত জাহানের হেড ভুটানের গোলরক্ষক সোনাম চোডেনের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। এরপর ফিরতি বলে প্লেসিংয়ে সুরভি করেছে ১-০। ২২ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সুরভি। এ গোলের জোগানদাতা ছিল সুলতানা আক্তার। অবশ্য ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছে সুরভি।

ম্যাচের ৪০ মিনিটেই আরেকটি গোল পেতে পারত সুরভি। কিন্তু দুর্ভাগ্য সুরভির, বক্সের মধ্যে নেওয়া জোরালো শটটি সাইডপোস্টে লেগে ফেরে। তবে ৪৫ মিনিটে নুসরাত জাহানের ডিফেন্স চেরা পাসে বক্সে ঢুকে চমৎকার প্লেসিংয়ে করেছে ৪-০।

বিরতির পর মাঠে নেমে যেন আবারও গোলের নেশায় মেতে ওঠে সুরভি। ৪৬ মিনিটে কানন রানী বাহাদুরের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে সুরভি করে ৫-০। নুসরাত জাহানের করা ৫৫ মিনিটের গোলটি ছিল দর্শনীয়।

বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শটটি ভুটান গোলরক্ষক সোনামের মাথার ওপর দিয়ে ঢোকে জালে (৬-০)। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা আয়েশার গোলটি হয়েছে ৬৬ মিনিটে (৭-০)। এরপর ৮০ মিনিটে জটলা থেকে গোল করে থুইনু মারমার। আর ৮৭ মিনিটে ভুটানের কফিনে শেষ পেরেকটিও ঠুকেছে সুরভি।