সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এদিন এগিয়ে যেতে ৬ মিনিটের বেশি সময় লাগেনি রিয়ালের। সেল্টিক ডি-বক্সে দলটির সেন্টার ব্যাক মর্টিজ জেনজের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকে লক্ষ্যচ্যুত হননি লুকা মদরিচ। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক জো হার্টকে উল্টো পথে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন ক্রোয়াট তারকা।

এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রিয়াল। এ সময় বাঁ প্রান্ত দিয়েই রিয়ালের বেশিরভাগ আক্রমণগুলো তৈরি হচ্ছিল। তবে সেল্টিকের কয়েক স্তরের রক্ষণবুহ্যে শুরুতে একাধিকবার প্রতিহত হয়েছে রিয়ালের প্রচেষ্টা।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে তখন পর্যন্ত ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করে সেল্টিক। সতীর্থ রিও হাতাতের দারুণ এক পাস থেকে খালি জায়গায় বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ডাইজেন মায়েদা।

১৯ মিনিটে ব্যাক পোস্টে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন হার্ট। ওপেন প্লে থেকে গোল না আসলেও রিয়ালকে গোলের উপলক্ষ তৈরি করে দিচ্ছিল সেল্টিকই। ২০ মিনিটে আবারও রিয়ালকে পেনাল্টি উপহার দেয় সেল্টিক। এবার বল হাতে লাগান ম্যাট ও’রেইলি। পেনাল্টি থেকে এবার গোল করেন রদ্রিগো। এদিন ২০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের মধ্যে দুটি পেনাল্টি গোল হজম করেছে সেল্টিক। চ্যাম্পিয়নস লিগে এর আগে কোনো দল প্রতিপক্ষকে এত কম সময়ে দুটি পেনাল্টি উপহার দেয়নি।

একটু পর ব্যবধান ৩-০ করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল ভিনিসিয়ুসের সামনে। তবে রদ্রিগোর কাছ থেকে বল পেয়ে প্রায় ফাঁকা পোস্টে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন এই ব্রাজিলিয়ান। দুই গোল হজম করে জেগে ওঠার চেষ্টা করে সেল্টিক। পরপর কয়েকটি আক্রমণে রিয়ালকে পরীক্ষায়ও ফেলে তারা। তবে থিবো কোর্তোয়ার দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের কারণে নিরাশ হতে হয় স্কটিশ ক্লাবটিকে।

কোর্তোয়া বাঁচালেও প্রতিপক্ষকে ফিরতি উপহার নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল রিয়ালও। লিয়েল আবাদাকে ডি-বক্সের ভেতর ফেলে দেন রিয়াল ডিফেন্ডার ফারলেন্ড মেন্দি। তাৎক্ষণিকভাবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ম্যাচে দারুণ খেলা কোর্তোয়া এবারও ভুল করেননি। বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে রুখে দেন জসিপ জোরানোভিচের নেওয়া পেনাল্টিটি।

ঘটনাবহুল প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে তা শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।

ম্যাচে প্রথমার্ধের পুরোটা সময় ছিল রদ্রিগোময়। আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে সেল্টিককে রীতিমতো তটস্থ করে রেখেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। প্রথমার্ধে একাই ১০টি শট নেন রদ্রিগো, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাস দেওয়ার পাশাপাশি বক্সের ভেতর বল স্পর্শ করেছেন ১০ বার।

বিরতির পরও দাপট ধরে রেখে এগিয়ে যেতে সময় নেয়নি রিয়াল। দারুণ এক আক্রমণ থেকে ডি-বক্সের ভেতর দানি কারভাহালের কাছ থেকে স্লাইডিং পাসে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মার্কো অ্যাসেননিও।

এতটুকুতেই অবশ্য সন্তুষ্ট ছিল না রিয়াল। প্রথমার্ধে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার দায় ৬১ মিনিটে মেটান ভিনিসিয়ুস। ফেদে ভালভার্দের দারুণ পাসে নিঁখুত ফিনিশিংয়ে জালের ঠিকানায় পাঠান এই ব্রাজিলিয়ান। এই গোলের পর একাধিক বদলি মাঠে নামান রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। যার মাঝে ছিলেন করিম বেনজেমাও।

চার গোলে পিছিয়ে পড়া সেল্টিকের সামনেও এসেছিল একাধিক সুযোগ। তবে দুর্বল ফিনিশিংয়ে উদ্‌যাপনের উপলক্ষ পায়নি তারা।

এরপর ম্যাচের ৭১ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ট্রেডমার্ক শটে গোল করে রিয়ালকে ৫-০ গোলে এগিয়ে দেন নিজের সেরা ছন্দে থাকা ভালভার্দে। শেষ দিকে অবশ্য দারুণ এক ফ্রি-কিক গোলে ব্যবধান ৫-১ করে পেদ্রো জোতা। তবে সেটি ছিল সেল্টিকের জন্য স্রেফ সান্ত্বনার এক গোল।