লাখ টাকা ভাতা পেয়েও ‘খেপ’ খেলা, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বললেন সতর্কের পর ব্যবস্থা
জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন খেলোয়াড়েরা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তাঁরা পেশাদার চুক্তির অধীন। কিন্তু সেই পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কেউ কেউ ছুটছেন স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচ খেলতে। আর এ নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।
সম্প্রতি শেখ মোরছালিন, ফয়সাল আহমেদ, রাকিব হোসেনসহ জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকার খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
গতকাল রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সাথে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে এবং দেশের প্রতি যে একটু আগে বলছিলাম যে কমিটমেন্টের অভাব, যে তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব সেটার কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’
তবে এখনই শাস্তির পথে যেতে চান না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। প্রথমে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সতর্ক করার পক্ষে তিনি। এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সাথে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।’
খেপ খেলা নিয়ে আপত্তির আরেকটি বড় কারণ চোটের আশঙ্কা। স্থানীয় এসব ম্যাচে মাঠের অবস্থা, প্রতিপক্ষ ও খেলার পরিবেশ সব সময় পেশাদার ফুটবলের উপযোগী না–ও হতে পারে। ফলে সামান্য একটি চোটও জাতীয় দল কিংবা ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য তাই প্রশ্নটা শুধু ‘খেপ খেলবেন কি না’, এমন নয়। সরকারের ভাতা, ক্লাবের চুক্তি ও জাতীয় দলের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে একজন পেশাদার ফুটবলারের মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তও এখন নজরদারির মধ্যে।
আমিনুল হকের সতর্কবার্তার পর ‘খেপ’ খেলতে যাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে বাফুফে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।