এমবাপ্পে নাকি হলান্ড, চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর রেকর্ড কে ভাঙবেন

রোনালদোর রেকর্ড থেকে এমবাপ্পের দূরত্ব ৬৯ গোলের, হলান্ডের ৮১ গোল।রিয়াল ও ম্যান সিটি

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারির গর্জন তখনো ঠিক জমে ওঠেনি। ম্যাচের বয়স মাত্র ১৪ মিনিট। বল পেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর শটে কেঁপে উঠল ইন্টার মিলানের জাল। রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দিয়ে এমবাপ্পের সেই চেনা উদ্‌যাপন।

কয়েক শ কিলোমিটার দূরে পোর্তোতে সেই একই রাতে আরেকজনের এমন চেনা উদ্‌যাপন দেখা গেল দুই-দুইবার। একাই পোর্তোর রাতটা মাটি করে দিলেন আর্লিং হলান্ড।

রাত শেষে স্কোরবোর্ড বলছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মিলানকে, ম্যানচেস্টার সিটি ২-০ গোলে পোর্তোকে।

রিয়াল কতটা ভালো খেলে জিতেছে, কতটা ইন্টার মিলানের ভুলে—সেই প্রশ্ন আছে। পেপ গার্দিওলার প্রবল ছায়া থেকে বেরোনো ম্যান সিটি কতটা নিজেদের দাপট দেখাতে পারল, সেই প্রশ্নও। যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, তা হলো, নতুন মৌসুমের শুরুতেই এখনকার ফুটবলের দুই বড় তারকা যেন জানিয়ে দিলেন, গোলের গল্পে এখনো তাঁরাই প্রধান চরিত্র এবং সেই সূত্রেই আরেকটা প্রশ্ন, এই দুজনের কেউই কি একদিন টপকে যাবেন চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড?

চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ৭১তম গোলের পর কিলিয়ান এমবাপ্পে।
উয়েফা

এটা তো সত্যি, একটা সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-লিওনেল মেসি দ্বৈরথের উত্তরাধিকার তাঁরাই বয়ে নিয়ে যাবেন।

একসময় এই মঞ্চে রাজত্ব করতেন রোনালদো আর মেসি। গোলের পর গোল, রেকর্ডের পর রেকর্ড। যেন একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। রোনালদোর ১৪০ গোল এখনো যে কারও নাগালের বাইরে। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ১০৬, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ২১, জুভেন্টাসে ১৪। সাত মৌসুমে হয়েছেন প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসির গোল ১২৯টি, যার ১২০টি বার্সেলোনার জার্সিতে। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে টানা ১৮ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করার কীর্তিও তাঁর।

মেসি–রোনালদো যখন বার্সেলোনা–রিয়াল মাদ্রিদে খেলতেন
ফাইল ছবি

এই মহাকাব্যিক দ্বৈরথ এখন ইতিহাসের পাতায় বন্দী। রোনালদো আল নাসরে, বয়স ৪১—ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় চুকেই গেছে। মেসি ইন্টার মায়ামিতে, ৩৯ বছর বয়সে আর কখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তালিকার বাকিরাও একে একে সরে গেছেন লড়াই থেকে। রবার্ট লেভানডফস্কি ১০৯ গোল নিয়ে তিনে—ঠিকানা এখন মেজর লিগ সকারের শিকাগো ফায়ার। করিম বেনজেমা ৯০ গোল নিয়ে চারে। এখন খেলেন সৌদি আরবের আল হিলালে। আর পাঁচে রাউল, রিয়াল মাদ্রিদের সেই কিংবদন্তি, প্রথম ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন যিনি—৭১ গোল নিয়ে অনেক আগেই অবসরে।

সিটির জয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড
উয়েফা

গত রাতের গোলটি এমবাপ্পেকেও বসিয়েছে ঠিক রাউলের পাশে। তাঁর ঠিক পেছনেই আছেন হলান্ড—পরশুর জোড়া গোলের পর যার পরিসংখ্যান ৫৯ ম্যাচে ৫৯ গোল!

তাহলে রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা কার বেশি? এমবাপ্পের বয়স এখন ২৭, হলান্ড ২৬। রোনালদোর রেকর্ড থেকে এমবাপ্পের দূরত্ব ৬৯ গোলের, হলান্ডের ৮১ গোল।

গোলের হিসাবে এমবাপ্পে এগিয়ে, বয়স আর গতির হিসাবে হয়তো একটু বেশি এগিয়ে হলান্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন হলান্ড। এবার তাঁর সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। পরের ম্যাচে দরকার মাত্র একটা গোল। ভাবা যায়, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬০ গোল করতে মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ, লেভানডফস্কির ৮৫, এমবাপ্পের ৮৯, রোনালদোর ৯৮ ম্যাচ!

এমবাপ্পে যদি আগে রোনালদোকে ছাড়িয়েও যান, রেকর্ডটা খুব বেশি দিন নিজের কাছে রাখতে পারবেন বলে মনে হয় না।