২০১০ সালে ব্ল্যাটার ফিফা সভাপতি থাকার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রকে ভোটাভুটিতে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব জিতে নিয়েছিল কখনো বিশ্বকাপে না খেলা মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতার। অভিযোগ আছে, কাতারের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পেছন ফিফার দুর্নীতি মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল।

সুইজারল্যান্ডের গণমাধ্যম তাগেস–আন্তসাইগারের কাছে রীতিমতো ভুলই স্বীকার করেছের ব্ল্যাটার, ‘কাতার দেশ হিসেবে খুব ছোট। ফুটবল বিশ্বকাপ অনেক বড় একটা বিষয়। কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দেওয়া ভুল ছিল। সে সময়ের ফিফা সভাপতি হিসেবে আমিই এই ভুলের জন্য দায়ী।’

২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ব্ল্যাটারের ভোটও সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত ভোটাভুটির শেষ রাউন্ডে কাতারের কাছে ১৪–৮ ভোটে পরাজিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সব সময়ই অভিযোগ করে এসেছে, ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ফ্রান্সের সে সময়ের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ও উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি ফিফা নির্বাহী কমিটির বৈঠকেই কাতারকে বিশ্বকাপের আয়োজক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাতারের সে সময়ের প্রিন্স ও বর্তমান আমির শেখ তামিমও।

ব্ল্যাটার সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ফিফার নির্বাহী কমিটির সেই বৈঠকে কাতারকে আয়োজক করার ব্যাপারে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন প্লাতিনি। সে সময় চারটি ভোট ছিল প্লাতিনির হাতে।

ব্ল্যাটার বলেছেন, ‘সে সময় ফিফার নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল বিশ্বের দুই বড় শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে ২০১৮ সালে রাশিয়া ও ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার। প্লাতিনির ওই চার ভোট কাতারের পক্ষে যাওয়ায় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র নয়, হয়ে যায় কাতার। এটাই সত্যি।’