আবার হচ্ছে দেখা রিয়াল–বেনফিকা, ইতিহাস বলছে বেনফিকার কথা
নিয়তি একেই বলে। আর না হলে কি লিগ পর্বে তুমুল উত্তেজনাময় সেই ম্যাচের ঘোর কাটতে না কাটতেই নকআউট পর্বে আবার দেখা হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ–বেনফিকার! বলা হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্লে–অফ ম্যাচের কথা। যেখানে আজ রাতে চার ম্যাচের একটিতে মুখোমুখি রিয়াল–বেনফিকা। একই রাতে নিয়তি আরেক ম্যাচে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি করে দিয়েছে ফ্রান্সের দুই ক্লাবকে। যে ম্যাচের নাম ফ্রেঞ্চ ডার্বি, মুখোমুখি ফরাসি ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল পিএসজি ও মোনাকো।
রিয়াল–বেনফিকা ম্যাচের ক্ষেত্রে নিয়তির কথা বলার কারণটা হয়তো কারও অজানা নয়। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ দিবসে সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠা আর প্লে–অফে জায়গা করে নেওয়ার হিসাব যখন চূড়ান্ত রোমাঞ্চে রূপ নিয়েছে, মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল ও বেনফিকা। সেদিন লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে রিয়ালকে ৪–২ গোলে হারিয়ে প্লে–অফে জায়গা করে নেয় বেনফিকা। একটি গোল বেশি খাওয়ায় সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা পায়নি রিয়াল, খেলতে হচ্ছে প্লে–অফে।
সংক্ষেপে সেই ম্যাচের একটু বর্ণনা না দিলে আজকের রিয়াল–বেনফিকা ম্যাচটির যে অন্য রকম মাহাত্ম্য আছে, সেটা বোঝানো মুশকিল। তাই একনজরে সেই ম্যাচটা আগে একটু দেখে আসা যেতে পারে। ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে সেই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল, ৬ মিনিট পর সমতায় ফেরে বেনফিকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পেনাল্টি গোলে এগিয়েও যায় পর্তুগালের দলটি, ৫৪ মিনিটে ব্যবধান করে ৩–১। নিজের দ্বিতীয় গোলে ৫৮ মিনিটে যেটা কমিয়ে ৩–২ করেন এমবাপ্পে।
এরপর ম্যাচের মহানাটকীয় মুহূর্তের আবির্ভাব যোগ করা সময়ে। হিসাব তখন এ রকম—স্কোরলাইন ৩–২ থাকলে রিয়াল সরাসরি চলে যাবে শেষ ষোলোতে, ছিটকে যাবে বেনফিকা। ঠিক সেই সময়, যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ফ্রি–কিক পায় বেনফিকা। দলের জন্য কিছু একটা করতে গোলপোস্ট ছেড়ে রিয়ালের বক্সে উটে আসেন বেনফিকার গোলকিপার আনাতলি ট্রুবিন। দারুণ হেডে বেনফিকাকে শেষ ষোলোর প্লে–অফে তোলেন তিনি।
রিয়ালের সেই হারের ক্ষত শুকানোর আগে শেষ ষোলোর প্লে–অফের ড্রতে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। সেই থেকে আরেকটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখার প্রহর গোনা শুরু ফুটবলপ্রেমীদের। প্রহর গোনা শেষে সেই ক্ষণ বাংলাদেশ সময় আজ রাত দুইটায়।
ইতিহাস বলছে, এই লড়াইয়ে এগিয়ে বেনফিকাই। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৬২ সালে আমস্টারডামে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে ৫–৩ গোলে জেতে বেনফিকা। ১৯৬৪–৬৫ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগে আবার দেখা। লিসবনে প্রথম লেগে ৫–১ জয়ের পর মাদ্রিদে ২–১ গোলে হারে তারা। সব মিলিয়ে চার দেখায় বেনফিকার জয় তিনটি, রিয়ালের একটি।
তবু ইতিহাসে এগিয়ে থেকেও সতর্ক বেনফিকা শিবির। দলের কোচ জোসে মরিনিও বলেছেন, ‘তারা আহত। আর আহত রাজা সব সময়ই বিপজ্জনক।’ তবে সমর্থকদের আশাও দেখিয়েছেন তিনি, ‘আমরা প্রথম লেগ খেলব লক্ষ্য, পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আমরা জানি, চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজাদের কী করতে পারি।’
একই সময়ে আরেকটি ম্যাচও কম আকর্ষণীয় নয়। ইউরোপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে পিএসজি ও মোনাকো। তাই এই ম্যাচে আগের ইতিহাস বলে কিছু নেই।
তবে ফ্রান্সের ঘরোয়া ফুটবলে দুই দলের দ্বৈরথ নতুন নয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ ম্যাচে ২৩ জয় নিয়ে এগিয়ে পিএসজি। মোনাকোর জয় ১৩টি। ড্র হয়েছে ১৪ ম্যাচ। শক্তিমত্তার বিচারে এই মুহূর্তে পিএসজি এগিয়ে বলেই মনে করা হয়। কিন্তু ডার্বির ম্যাচে এসব হিসাব সব সময় মেলে না।