গত মৌসুম শেষেই সুয়ারেজের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যায় আতলেতিকোর, এর পর থেকেই ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাবহীন ছিলেন এই উরুগুইয়ান তারকা। বার্সেলোনায় ফিরতে পারেন, সেবাস্তিয়েন আলেরের বিকল্প হিসেবে হাল ধরতে পারেন ডর্টমুন্ডের, আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্সে যেতে পারেন বা যোগ দিতে পারেন জুভেন্টাসে—সুয়ারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শোনা যাচ্ছিল অনেক কিছুই। শেষমেশ নিজের আঁতুড়ঘরের ডাক উপেক্ষা করতে পারেননি সুয়ারেজ।

২০০৫ সালের নভেম্বরে নাসিওনালের হয়ে অভিষেক হয় সুয়ারেজের। ক্লাবকে লিগ জিতিয়ে পাড়ি জমান ইউরোপে, নাম লেখান ডাচ্‌ ক্লাব গ্রনিঙ্গেনে। সেখানে আলো ছড়িয়ে নজর কাড়েন নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ক্লাব আয়াক্সে। ২০১০ বিশ্বকাপে খেলার সময় আয়াক্সের খেলোয়াড়ই ছিলেন।

বিশ্বকাপে সুয়ারেজের জাদু আর আয়াক্সের হয়ে তুখোড় ফর্ম দেখে তাঁকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসে লিভারপুল, ফার্নান্দো তোরেস-পরবর্তী যুগে আক্রমণভাগের হাল ধরার জন্য। চার বছর অ্যানফিল্ড মাতিয়ে যোগ দেন বার্সেলোনায়। সেখানে মেসি, নেইমারের সঙ্গে ভুবনজয়ী এক ত্রয়ী গড়ে বার্সাকে সম্ভাব্য সব শিরোপাই জেতান এই ফরোয়ার্ড। গত দুই বছর খেলেছেন আতলেতিকোর হয়ে।

default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুয়ারেজ বলেছেন, ‘প্রথমত, আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনারা আমার ও আমার পরিবারের প্রতি গত কয়েক দিনে অনেক ভালোবাসা দেখিয়েছেন। আমি নাসিওনালে যোগ দেওয়ার জন্য প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করেছি। এমন সুযোগকে “না” বলতে পারিনি। আশা করি, আগামী দিনে চূড়ান্ত চুক্তিসংক্রান্ত সব কাজ ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হবে।’

default-image

সুয়ারেজকে শৈশবের ক্লাবে ফেরানোর দায়িত্বটা যেন গত কয়েক দিনে নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নাসিওনালের সমর্থকেরা। তাঁকে দলে ভেড়ানোর জন্য টুইটারে ‘সুয়ারেজ হ্যাশট্যাগ নাসিওনাল’ লিখে একটি অভিযান শুরু করেছিলেন তাঁর ভক্তরা। সুয়ারেজ নাসিওনালে ফিরে আসুন, এটা চাইছিলেন উরুগুয়ের ক্রীড়ামন্ত্রীসহ আরও অনেক নেতা। তাঁদের অনেকেই ক্লাবটির সমর্থকদের টুইটার-অভিযানে অংশ নিয়েছেন এর মধ্যে।

শেষমেশ তাঁদের মনের আশাই পূরণ হচ্ছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন