আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকের অবসর

দীর্ঘ দুই দশকের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো।এএফএ

সেই চওড়া কাঁধ, শান্ত চাউনি আর গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্রপ্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা—আর্জেন্টাইনদের কাছে সবই এখন স্মৃতি। দীর্ঘ দুই দশকের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন সের্হিও রোমেরো। আর্জেন্টাইনরা যাঁকে ভালোবেসে ডাকে ‘চিকিতো’ নামে। ৩৯ বছর বয়সে এসে গ্লাভসজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক।

তবে মাঠ ছাড়লেও ফুটবল ছাড়ছেন না। গোলপোস্টের নিচে বল থামানোর পাট চুকিয়ে এবার তিনি আসছেন ডাগআউটে, কোচ হিসেবে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির দেওয়া তথ্যমতে, রোমেরো ইতিমধ্যেই নিজের কোচিং স্টাফ গুছিয়ে নিয়েছেন। প্রস্তুত হয়ে আছেন জীবনের নতুন এক ইনিংস শুরু করতে।

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে রোমেরো।
উইকিপিডিয়া

আর্জেন্টিনার ফুটবলে গোলরক্ষকদের ভিড়ে রোমেরোর নামটা একটা তালিকায় সবার ওপরেই থাকবে। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা তাঁরই—৯৬টি। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে কি আর রোমেরোকে মাপা যায়? তাঁকে বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালে।

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার নায়ক ছিলেন রোমেরো।
এএফপি

ডাচদের বিপক্ষে টাইব্রেকারের আগে হাভিয়ের মাচেরানো নাকি রোমেরোকে বলেছিলেন, ‘আজ তুমি নায়ক হয়ে যাবে’। মাচেরানোর সেই ভবিষ্যদ্বাণী রোমেরো সত্যি করেছিলেন দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে। ২৪ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে সেদিন সত্যিই তিনি হয়ে উঠেছিলেন আলবিসেলেস্তেদের নায়ক। তবে জার্মানির বিপক্ষে সেবার ফাইনালে আর্জেন্টিনা আর পারেনি, হেরে গিয়েছিল ১-০ গোলে। ২০১৫ ও ২০১৬ কোপ আমেরিকায়ও তিনি ছিলেন পোস্টের নিচে। ওই দুটি টুর্নামেন্টেও রানার্সআপ হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন

আসল বিশ্বকাপ না জিতলেও রোমেরো ২০০৭ সালে জিতেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকেও লিওনেল মেসিদের সঙ্গে জিতেছিলেন সোনা।
রেসিং ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রোমেরো খেলেছেন ইউরোপের অনেক লিগে। নেদারল্যান্ডসের এজেড আলকমার থেকে সাম্পদোরিয়া, মোনাকো হয়ে পৌঁছেছিলেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে অবশ্য ‘ব্যাকআপ’ গোলরক্ষক হিসেবে থাকতে হয়েছিল বেশির ভাগ সময়। তবে ২০১৭ সালে ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগ জয়ে ছিল তাঁর বড় অবদান।

ইউরোপা লিগের ম্যাচে রোমেরো।
উইকিপিডিয়া

ইউরোপ-অধ্যায় শেষ করে ফিরেছিলেন স্বদেশে। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে রেসিং ক্লাবে ফাকুন্দো কামবেসেসের বিকল্প হিসেবেও খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগ আর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে কোপা আর্জেন্টিনায় নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে বিদায় বলে দিলেন ফুটবলকে।
মাঠের রোমেরোকে হয়তো আর দেখা যাবে না গোল বাঁচাতে ডাইভ দিতে, কিন্তু ডাগআউটে স্যুট-টাই পরা এক ‘চিকিতো’কে দেখার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।

আরও পড়ুন