বাংলাদেশকে ‘সেরা’ মেনেও শিরোপা চান ভারতের কোচ

ভারতীয় কোচ নওশাদ মুসাইনস্টাগ্রাম
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবার সবচেয়ে শক্তিশালী দল কোনটি? ভারতের কোচ নওশাদ মুসার উত্তর, বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের নিয়ে তাঁর কোনো সংশয় নেই।

ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আশাও করছেন। তবে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করলেও নিজের দলের লক্ষ্য নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই ভারতীয় কোচের। ভারত ঢাকায় এসেছে দশম শিরোপা জিততেই।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে আজ দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছে ভারত জাতীয় ফুটবল দল। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন নওশাদ। তাঁর চোখে, এবারের টুর্নামেন্টে সবচেয়ে শক্তিশালী দল বাংলাদেশ। ভারতীয় কোচ বলেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব।’

নওশাদ বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখলেও শিরোপার লড়াইয়ে ভারতকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন দলটি এবারও শিরোপা ধরে রাখতে চায়। যদিও সেই অভিযানে এবার তাদের ভরসা মূলত তরুণদের ওপর। ভারতের মূল জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় নেই এবারের দলে। মূল দলের কোচ খালিদ জামিলের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নওশাদ মুসা। ২৮ সদস্যের দলে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের খেলোয়াড়ের সংখ্যাই বেশি।

ভারতের মূল জাতীয় দল একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। আবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলায় ক্লাবগুলো থেকেও শুরুতে সব খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না নওশাদ। ফলে প্রথম ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নামাতে পারবে না ভারত।

এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন কোচ। তবে যে দল পেয়েছেন, তা নিয়ে হতাশ নন তিনি, ‘৫ তারিখের পর থেকে লিগে ১০টি দল খেলবে। সেখানকার কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচের আগে পাচ্ছি না। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়। সত্যি বলতে, আমাদের দলটাও শক্তিশালী।’

আরও পড়ুন

ভারতের এই দলকে আসলেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কথাই ধরা যাক। সেবারও অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে এসেছিল ভারত। কিন্তু সেই দল নিয়েই ফাইনালে উঠেছিল তারা। সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত। ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে জিতেছিল শিরোপা। তারকাদের ছাড়াও সাফ জেতার অভিজ্ঞতা তাই তাদের আছে।

সাফে ভারতের সাফল্যের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সব মিলিয়ে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে হারিয়েছে অতিথি দল কুয়েতকে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে স্বাগতিকেরা। গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মাঠে দুই দলের ম্যাচটি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র।

৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে দুই দল। বেলা সাড়ে তিনটায় ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। আর রাত আটটায় স্বাগতিক বাংলাদেশের লড়াই ভুটানের বিপক্ষে।