জমি পাচ্ছে বাফুফে, রামুতে হবে টেকনিক্যাল সেন্টার

টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য জমি পাচ্ছে বাফুফেপ্রথম আলো

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বড় এক স্বস্তি। কক্সবাজারের রামুতে ফিফার অর্থায়নে ‘বাফুফে টেকনিক্যাল সেন্টার’ নির্মাণের জন্য আট কোটি টাকার জমি মাত্র এক লাখ এক টাকায় পেয়েছে বাফুফে। আর এর মাধ্যমে দেশের ফুটবলে দীর্ঘদিনের একটা প্রত্যাশা পূরণের পথও খুলেছে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বাফুফের নামে অন্তত ২০ বছরের স্থায়ী মালিকানা বা দখল না থাকলে অনুদান পাওয়া যাবে না। সেই শর্ত পূরণ করে কক্সবাজারে প্রথম পর্যায়ে জমির লিজের মেয়াদ হচ্ছে ৩০ বছর, পরে তা বেড়ে ৯৯ বছর পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ আছে।

আগামীকাল কক্সবাজারে স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জায়গা হস্তান্তর নিয়ে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করবেন। এর পরপরই কাল দুপুরে কক্সবাজারে বাফুফে নির্বাহী কমিটির সভাও হওয়ার কথা। সেখানে টেকনিক্যাল সেন্টারের নকশা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে।  

বছর চারেক আগে এই প্রকল্প আসে বাফুফের কাছে। কাজী সালাহউদ্দিন বাফুফে সভাপতি থাকার সময় কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালংয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য তৎকালীন সরকার প্রায় ২০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। তবে বনাঞ্চল ধ্বংসের আশঙ্কায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো তীব্র আপত্তি তোলে। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সেই বরাদ্দ বাতিল করে অন্যত্র জমি খুঁজতে বলে। অবশেষে স্থান পরিবর্তন ও দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে নতুন জমি চূড়ান্ত হয়েছে।

টেকনিক্যাল সেন্টারের আন্তর্জাতিক মানের তিনটি ফুটবল মাঠ থাকবে, যার দুটি ঘাসের; অন্যটি টার্ফের। খেলোয়াড়–কোচদের জন্য দুটি চারতলা ডরমিটরি করা হবে। থাকবে জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন–সুবিধা, ক্যানটিন এবং কনফারেন্স কক্ষসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ–সুবিধা।

এই প্রকল্পের আওতায় এখন কক্সবাজারের রামুর রশিদনগর ইউনিয়নে বাফুফেকে ১৫.২০ একর জমি দেওয়া হচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এই খাসজমির মূল্য বাবদ আট কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল বাফুফের কাছে। বাফুফের পক্ষে এত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব ছিল না। জমিটি বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করে বাফুফে; আর তা অনুমোদন করেছে বর্তমান সরকার।

আরও পড়ুন

এ প্রসঙ্গে বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদউদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে আট কোটি টাকার বেশি চাওয়া হলে আমরা তা বিনা মূল্যে বাফুফেকে দেওয়ার জন্য আবেদন জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সরকার বিশেষ বিবেচনায় প্রতীকী মূল্য এক লাখ এক টাকায় এটি অনুমোদন করেছে। সেই টাকা জমাও দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার আমরা জমি পেতে যাচ্ছি।’

স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাফুফের নিজস্ব কোনো পূর্ণাঙ্গ একাডেমি বা অনুশীলনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। বাফুফের কোনো নিজস্ব স্টেডিয়াম দূরের কথা, নেই কোনো নিজস্ব মাঠও।

বিভিন্ন দলের ক্যাম্প চলাকালীন নিজস্ব আধুনিক আবাসনব্যবস্থাও এত দিনে করে উঠতে পারেনি দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এত সব অপ্রাপ্তি দূর করতে আধুনিক সুযোগ–সুবিধা নিয়ে অবশেষে বাফুফের নিজস্ব একটি স্থাপনা হচ্ছে। যেখানে নারী ও পুরুষ দুই বিভাগেই জাতীয় ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিকসহ জাতীয় দলের ক্যাম্প আয়োজন করবে বাফুফে। তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণ করে টেকনিক্যাল সেন্টারে আনা হবে এবং সেখানেই গড়ে তোলা হবে আগামীর ফুটবলারদের।

টেকনিক্যাল সেন্টারের আন্তর্জাতিক মানের তিনটি ফুটবল মাঠ থাকবে, যার দুটি ঘাসের; অন্যটি টার্ফের। খেলোয়াড়–কোচদের জন্য দুটি চারতলা ডরমিটরি করা হবে। থাকবে জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন–সুবিধা, ক্যানটিন এবং কনফারেন্স কক্ষসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ–সুবিধা। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান কামরুল হাসান জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য ফিফার কাছ থেকে দুই কিস্তিতে মোট ৬৫ কোটির টাকার মতো পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন