কেন মেসির হাতে শিরোপা দেখতে চান না রোনালদো
কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আর এক মাসও বাকি নেই। ক্লাব ফুটবল দিয়েই বিশ্বকাপের তারকারা প্রস্তুত হচ্ছেন। সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকেরা ব্যস্ত নিজেদের ফেবারিট বাছাইয়ে। বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের মত দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো কথা বলেছেন নিজের বিশ্বকাপ ভাবনাসহ নানা বিষয় নিয়ে। যেখানে রোনালদো বলেছেন, লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ উঠুক, তা তিনি চান না। কেন চান না, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’খ্যাত সাবেক এই ফুটবলার।
বিশ্বকাপে সবার চোখ থাকবে মেসির ওপর। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে মেসি শিরোপা উঁচিয়ে ধরুন, এমনটাই চাওয়া বিশ্বব্যাপী আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। অনেকে এর মধ্য দিয়ে মেসির ক্যারিয়ারের পূর্ণতাও দেখছেন। তবে মেসির হাতে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি না উঠুক—এমন আশা করার লোকের সংখ্যাও কম নয়। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো সেই দলেরই একজন।
ব্রাজিল না জিতলে মেসির হাতে শিরোপা দেখতে চান কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক রোনালদো মুখে হাসি এনে বলেছেন, ‘যদি সে স্পেনের হয়ে খেলত (তবে চাইতেন)।’
এটুকু বলে রোনালদো আরও যোগ করে বলেছেন ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথটা বিশাল ব্যাপার। আমাদের অবিশ্বাস্য সব লড়াইয়ের ইতিহাস আছে, যদিও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গেই তা হয়েছে। এটি ফুটবলের সুন্দর বিষয়গুলোরও একটি। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের কথা ভাবতেও পারি না।’
মেসিকে বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য মনে করলেও পরের কথাতেই নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন রোনালদো, ‘মেসি এর (বিশ্বকাপের) যোগ্য কি না? অবশ্যই সে যোগ্য। তবে তাতে সে আমার সমর্থন পাবে না। আমি তাকে ভালোবাসি এবং আমি আশা করি, আমার ব্যাপারটা সে বুঝতে পারবে। কারণ, আমি নিশ্চিত, সে–ও একইভাবে চিন্তা করে। তবে যখন আপনি জিতবেন, তখন সম্মানও পাবেন। ডিয়েগোর (ম্যারাডোনা) মতোই, যি কিনা ব্রাজিলেও অনেক সম্মানিত একজন।’
বিশ্বকাপের কাদের বেশি সম্ভাবনা দেখছেন, তা জানতে চাইলে রোনালদো আরও বলেছেন, ‘ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানি সব সময় তালিকায় থাকে। ইংল্যান্ড ইউরোতে দারুণ খেলেছে। তবে আর্জেন্টিনা ৩৫ ম্যাচ ধরে অপরাজিত। ব্রাজিলকেও দারুণ লাগছে, সুপার ফেবারিট। যদিও এসবে কিছু আসে–যায় না। ব্রাজিলে আমরা জিততে চাই। মানুষ ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে অনেক কথা বলে, যে দলটি অনেক ভালো খেলেছিল। তবে জিততে পারেনি। আর মানুষ বলে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ভালো খেলেনি তাতে অবশ্য কী আসে–যায়!’