তারকায় ঠাসা, দামে আকাশছোঁয়া—বিশ্বের ১০ দামি স্কোয়াড
ফুটবলে তারকার দাম শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে মাপা হয় না, বাজারেও হয়। কেউ কোটি কোটি ইউরো দাম নিয়ে বল পায়ে ছোটেন, কেউ ছুটতে ছুটতে নতুন দাম তৈরি করেন। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার পর সেই হিসাবটাই আবার নতুন করে করেছে ট্রান্সফারমার্কেট। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্কোয়াডের সিংহাসন ফিরে পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আবার শীর্ষ ক্লাবগুলোর বেশির ভাগই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১০ স্কোয়াড।
১. রিয়াল মাদ্রিদ: ১৪৬ কোটি ইউরো
ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্কোয়াড এখন রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামকে ঘিরে আক্রমণভাগের বিপুল বাজারমূল্যের সঙ্গে গ্রীষ্মে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় যোগ করেছে তারা। ইয়ান দিয়োমান্দে, মার্ক কুকুরেয়া ও ইব্রাহিমা কোনাতের মতো খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দলটির মোট বাজারমূল্য আরও বাড়িয়েছে। এই মুহূর্তে ২৭ জনের স্কোয়াড গড়া রিয়ালের প্রতি খেলোয়াড়ের গড় মূল্য ৫.৩৯ কোটির বেশি।
২. ম্যানচেস্টার সিটি: ১৪৩ কোটি ইউরো
কিছুদিন আগেও শীর্ষে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের পর দুইয়ে নেমে গেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি। এনজো ফার্নান্দেজ, এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও আইয়ুব বুয়াদ্দির মতো মিডফিল্ডারদের দলে টেনে স্কোয়াডের শক্তি বাড়িয়েছে সিটি। ২৫ জনের স্কোয়াডের ১৪৩ কোটি ইউরোর বাজারমূল্য নিয়ে রিয়ালের খুব কাছেই আছে তারা।
৩. পিএসজি: ১৩৬ কোটি ইউরো
টানা দুবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী পিএসজি আছে ৩ নম্বরে। লুইস এনরিকের দলে ১০ কোটি ইউরো বা তার বেশি বাজারমূল্যের খেলোয়াড় আছেন পাঁচজন। জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মতো তারকারাই দলটির বাজারমূল্যকে এত ওপরে নিয়ে গেছেন।
৪. আর্সেনাল: ১৩৩ কোটি ইউরো
শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে স্কোয়াডে সবচেয়ে কম খেলোয়াড় আর্সেনাল ও পিএসজির—২৪ জন করে। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গত কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে স্কোয়াড শক্তিশালী করেছে। মাঠের সাফল্যের সঙ্গে বেড়েছে খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যও। ব্রুনো গিমারায়েস ও এজরি কনসার মতো নতুন সংযোজনও দলটির স্কোয়াড ভ্যালু বাড়িয়েছে। ১৩৩ কোটি ইউরো নিয়ে চতুর্থ স্থানে আর্সেনাল।
৫. বার্সেলোনা: ১২৬ কোটি ইউরো
বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের একজন বার্সারই—লামিনে ইয়ামাল (২২ কোটি, একই দাম সিটির হলান্ডেরও)। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে তাঁর বাজারমূল্য ২২ কোটি ইউরো। ইয়ামালের সঙ্গে রাফিনিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবারসিরাও বার্সার স্কোয়াডকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান করে তুলেছেন। বার্সা স্কোয়াডের ২৭ খেলোয়াড়ের গড় মূল্য ৪.৬৭ কোটি ইউরো।
৬. চেলসি: ১০৮ কোটি ইউরো
শীর্ষ ১০ দামি স্কোয়াডের মধ্যে গড় বয়সে সবচেয়ে তরুণ দল চেলসির। স্কোয়াডের ২৮ জনের গড় বয়স ২৪.৪ বছর। বছরের পর বছর ধরে চেলসির বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রভাব স্পষ্ট খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যে। ১০৮ কোটি ইউরো নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে ইংলিশ ক্লাবটি।
৭. বায়ার্ন মিউনিখ: ১০৪ কোটি ইউরো
বুন্দেসলিগার সবচেয়ে দামি স্কোয়াড বায়ার্ন মিউনিখের। জার্মান ক্লাবটির মোট বাজারমূল্য ১০৪ কোটি ইউরো। মাইকেল ওলিসে তাদের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়দের একজন। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর তালিকায় জার্মানির একমাত্র প্রতিনিধি বায়ার্ন।
৮. লিভারপুল: ১০৩ কোটি ইউরো
খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যে লিভারপুল আগের চেয়ে এগিয়েছে। বর্তমানে ১০৩ কোটি ইউরোর স্কোয়াড নিয়ে অষ্টম স্থানে তারা। দলবদলের শেষ দিকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নেওয়াতেই মূলত স্কোয়াডের বাজারমূল্য বেড়েছে। বর্তমানে ২৭ ফুটবলার আছে লিভারপুল স্কোয়াডে।
৯. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: ৯২.৪৩ কোটি ইউরো
মিডফিল্ডে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে গ্রীষ্মকালীন দলবদল শেষ করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৯২.৪৩ কোটি ইউরো বাজারমূল্যের স্কোয়াড নিয়ে তারা আছে নবম স্থানে। ইউনাইটেডে স্কোয়াডে খেলোয়াড়ও অবশ্য অন্যদের তুলনায় বেশি। মোট ৩০ জন খেলোয়াড় দলটিতে, গড় মূল্য ৩.০৮ কোটির বেশি।
১০. টটেনহাম হটস্পার: ৮২.৪০ কোটি ইউরো
শীর্ষ দশের শেষ দল টটেনহাম। গ্রীষ্মের দলবদলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। সেই বিনিয়োগের প্রতিফলন পড়েছে স্কোয়াডের বাজারমূল্যেও। ৮২.৪০ কোটি ইউরো নিয়ে দশম স্থানে টটেনহাম। ২৮ জনের টটেনহামে খেলোয়াড়দের গড় মূল্য ২.৯৪ কোটির বেশি।