নারী বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে আছে স্প্যানিশ ফুটবল অঙ্গন। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লুইস রুবিয়ালেসের স্পেনের খেলোয়াড় হেনি হেরমোসোকে পদকমঞ্চে চুমু খাওয়া নিয়ে এই উত্তাপের সূত্রপাত। গোটা ফুটবল–বিশ্ব রুবিয়ালেসের এমন আচরণের সমালোচনা করেছে। এমনকি তাঁর এমন আচরণে খেপেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রীও। এর মধ্যে ফিফার পক্ষ থেকে তাঁকে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। এবার চুমু–কাণ্ডে রুবিয়ালেসকে ধুয়ে দিয়েছে স্পেনের ছেলেদের জাতীয় ফুটবল দল।

এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিয়ালেসের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য এবং তাঁর এ ঘটনা নারী দলের বিশ্বকাপ জয়ের অর্জনকেও কলঙ্কিত করেছে বলে মন্তব্য করেছে ছেলেদের জাতীয় ফুটবল দল। স্পেন দলের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি পড়ে শোনান অধিনায়ক আলভারো মোরাতা। এ সময় অন্য তিন অধিনায়ক সিজার আজপিলিকুয়েতা, রদ্রি ও মার্কো আসেনসিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

চুমু–কাণ্ডে রুবিয়ালেস পদত্যাগ না করায় খেপেছেন ক্যাসিয়াস-দে হেয়ারাও

নারী দলের অর্জনকে স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য যুগান্তকারী উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রথমত, আমরা আরও একবার আমাদের গর্ব সিডনিতে বিশ্বকাপ জেতা নারী দলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। এটি এমন একটি অর্থবহ মাইলফলক, যা দ্বারা স্পেন নারী দলকে আগে ও পরে চিহ্নিত করা হবে। আর এই অমূল্য অর্জন অনেক নারীকে অনুপ্রাণিত করবে।’

রুবিয়ালেসের ‘চুমু–কাণ্ড’কে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিন অধিনায়ক আরও বলেছেন, ‘আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি সেই খেলোয়াড়দের জন্য, যারা নিজেদের সাফল্যকে কলঙ্কিত হতে দেখেছে। একই সঙ্গে আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি। পাশাপাশি আমরা রুবিয়ালেস যে অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেছে তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তার মান রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

এ সময় স্প্যানিশ মাঠে ও মাঠের বাইরে নিজেদের আচরণ দ্বারা নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বানও জানান তাঁরা, ‘আমরা দৃঢ় ও স্পষ্টভাবে খেলাধুলার প্রতিনিধিত্বকারী মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়াতে চাই। স্প্যানিশ ফুটবলকে অবশ্যই শ্রদ্ধা, অনুপ্রেরণা, সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তি এবং বৈচিত্র্যময়তার চালিকা শক্তি হতে হবে। পাশাপাশি মাঠে এবং মাঠের বাইরে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’

তবে শুরু থেকেই থেকেই চুমু–কাণ্ডে নিজের দোষ অস্বীকার করে আসছেন রুবিয়ালেস। এমনকি এ ঘটনায় তিনি পদত্যাগ করবেন না বলেও জানান। এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রুবিয়ালেস বলেছিলেন, চুমুর বিষয়টি ছিল পারস্পরিক, স্বতঃস্ফূর্ত ও উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ, যা অস্বীকার করেন হেরমোসো।

আরও পড়ুন

‘চুমু-কাণ্ডে’ রুবিয়ালেসের ওপর খেপেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রীও

স্পেনের নারী ফুটবলারদের ইউনিয়ন ‘ফুটপ্রো’কে নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে হেরমোসো বলেছেন, ‘আমার স্বার্থ রক্ষা করতে এজেন্সি টিএমজের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে আমার ইউনিয়ন ফুটপ্রো এবং তারা এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকায় আছে। এ ধরনের আচরণ করে কেউ যেন পার না পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নারী ফুটবলারদের অগ্রহণযোগ্য আচরণ থেকে রক্ষা করতে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা যেন নেওয়া হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’