টাইব্রেকারে মহানাটকে ডাচদের কান্না, শেষ হাসি মরক্কোর

টাইব্রেকারে জয়ের পর মরক্কোর খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপনরয়টার্স

নেদারল্যান্ডস ১–১ মরক্কো (টাইব্রেকারে মরক্কো ৩–২ গোলে জয়ী)

বোস্টনে জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচের পথেই এগোচ্ছিল মন্তেরেইয়ে নেদারল্যান্ডস–মরক্কো ম্যাচ। বোস্টনে যেমন নির্ধারিত সময়ে ১–১ গোলের ড্র দেখার পর অতিরিক্ত সময়ে আর গোল হয়নি, তারপর টাইব্রেকারে গড়িয়েছে ম্যাচ। মন্তেরেইয়েও ঠিক তা–ই।

তবে টাইব্রেকারে যে মিসের মহড়া দিয়েছে দুই দল, সেটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। শেষ পর্যন্ত মহানাটকীয় এই টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে মরক্কো।

আগের ম্যাচে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এবার শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসও বিদায় নিল স্নায়ুচাপের একই পরীক্ষায় হেরে। জোড়া অঘটনই বলা যায়!

হিউস্টনে আগামী শনিবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো।

টাইব্রেকারে তিনটি শট মিস করে নেদারল্যান্ডস। তাদের দ্বিতীয় শট জাস্টিন ক্লুইভার্ট পোস্টে মারেন। চতুর্থ শটও পোস্টে মারেন কুইন্টেন টিম্বার। ক্রিসেনসিও সামারভিলের পঞ্চম শটটি ঠেকান মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বুনু।

মরক্কো টাইব্রেকারে মিস করে দুটি শট। তাদের প্রথম শটটি পোস্টে মারেন মিডফিল্ডার নিল এল আয়নাউয়ি। চতুর্থ শটও পোস্টে মারেন মরক্কো তারকা আশরাফ হাকিমি। ৫ নম্বর শটে গিয়ে লক্ষ্য ভেদ করে মরক্কোকে দারুণ জয় এনে দেন মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি।

টাইব্রেকারে জয়সূচক গোল করে মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারির উদ্‌যাপন
রয়টার্স

৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। যোগ করা (৯১) সময়ে মরক্কোর হয়ে গোলটি শোধ করেন ইসা দিওপ। অবশ্য ৯৬ মিনিটে মরক্কো ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি ‘পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ’ থেকে ডাচদের গোলকিপার বার্ট ভারব্রুগেনকে ফাঁকি দিতে পারলে এই ম্যাচ সম্ভবত আর টাইব্রেকারে গড়াত না। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধেও কোনো দল আর গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে।

শেষ ৩২ দলের রাউন্ডের এ ম্যাচে প্রথমার্ধ এবং পরের অর্ধ মিলিয়ে মরক্কোই তুলনামূলক বেশি ভালো খেলেছে। ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শটের ৫টিই রেখেছে তারা পোস্টে। ডাচরা ৬টি শটের ২টি রাখতে পেরেছে পোস্টে।

বেশ কিছু গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল আফ্রিকার দলটি। কাঁচা ফিনিশিংয়ে গোল আর হয়নি। এভাবে নির্ধারিত সময় যখন গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ভাগ্য মুখ তুলে তাকায় ডাচ তারকা গাকপোর প্রতি।

ডাচ উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধায় পড়ে যাওয়ার আগে কোনোমতে পাস বাড়ান গাকপোর কাছে। বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে ডাচ ফরোয়ার্ডের গোলে একটি প্রশ্ন উঠতে পারে, মানুষ তৈরি আসলে কোন ধাতুতে?

কোডি ও তাঁর স্ত্রী নোয়া ফন ডার বিজ মিলে তাঁদের অনাগত সন্তানের নাম রেখেছিলেন এলিজা রাফায়েল গাকপো। পৃথিবীর আলো আর দেখতে পারেনি গাকপো জুনিয়র। মায়ের পেটে থাকতেই ফিরেছে না–ফেরার দেশে। নোয়া নিজেই খবরটি কয়েক দিন আগে জানানোর পর কোডির মনের অবস্থা কী হতে পারে!

টাইব্রেকারে হেরে মাঠেই ভেঙে পড়েছে নেদারল্যান্ডস দল
রয়টার্স

সেই শোককে পাথরচাপা দিয়ে কোডি থেকে যান দলের সঙ্গে। ওই গোলটি কি তার সান্ত্বনা পুরস্কার? গোলের পর হাঁটু মুড়ে বসে বেশ আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন কোডি গাকপো। বেঞ্চের ডাচ সতীর্থরাও ছুটে গিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে গোলটি উদ্‌যাপন করেন।

আরও পড়ুন

কিন্তু ভাগ্য ভেবে রেখেছিল অন্য কিছু। যোগ করা সময়ে মরক্কো মিডফিল্ডার শেমসদিন তালবির বাঁ প্রান্ত থেকে দেওয়া ক্রসটি ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের ‘ক্লিয়ার’ করার কথা ছিল। কিন্তু পেছন থেকে তাঁর চেয়েও বেশি উচ্চতায় লাফিয়ে সমতাসূচক গোলটি করে ডাচদের স্তব্ধ করে দেন মরক্কো ডিফেন্ডার ইসা দিওপ।

শেষ ষোলোয় ওঠার পর দর্শক অভিবাদনের জবাবে মরক্কো দল
রয়টার্স

বিশ্বকাপে এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডস। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে হেরেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি দলটি। কাতারে চার বছর আগে সর্বশেষ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ডাচরা।