ক্যাসিয়াসের প্রেমিকা আর ফাইনালের সেই চুমু
বিশ্বকাপ মানে তো শুধু মাঠের লড়াই নয়; এর আশপাশে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য গল্পের কোলাজ। যে গল্পের কোনোটিতে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে, আছে রোমাঞ্চ কিংবা অজানা চমক। বিশ্বকাপের তেমন কিছু গল্প নিয়ে এ আয়োজন—
১১ জুলাই ২০১০। মাত্রই নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামজুড়ে তখন উচ্ছ্বাস, উৎসব আর চিৎকার।
ঠিক এমন মুহূর্তেই স্পেনের গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াস দৌড়ে গেলেন ক্যামেরার সামনে, যেখানে টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে ইন্টারভিউ নিচ্ছিলেন এক সাংবাদিক। ক্যামেরার সামনেই সেই সাংবাদিককে চুমু খেলেন। সাক্ষাৎ সরাসরি সম্প্রচারে।
স্পেনের পত্রিকা ‘এল পাইস’ এই মুহূর্তটির ছবি ছাপিয়ে শিরোনাম দিল ‘এল বেসো দে লা ভিক্তোরিয়া’। মানে ‘বিজয়ের চুমু’।
ক্যাসিয়াস যাঁকে চুমু দিয়েছিলেন, সেই সাংবাদিকের নাম সারা কার্বোনেরো।
সারা কার্বোনেরো ছিলেন স্পেনের শীর্ষ টেলিভিশন চ্যানেল টেলেসিনকোর ক্রীড়া উপস্থাপক। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ক্যাসিয়াসের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। ২০১০ সালের জুনে ক্যাসিয়াস দক্ষিণ আফ্রিকায় গেলেন স্পেন দলের অধিনায়ক ও গোলকিপার হিসেবে, আর সারা সাংবাদিক হিসেবে।
বিতর্কের শুরু যেখানে
বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম ম্যাচ ছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। অপ্রত্যাশিতভাবে ম্যাচটি ১–০ গোলে হেরে যায় স্পেন। বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে আসা একটি দলের প্রথম ম্যাচেই কাগজে–কলমে পিছিয়ে থাকা এক দলের কাছে হার—বিষয়টা হজম করতে কষ্টই হচ্ছিল স্প্যানিশদের। এর মধ্যেই খবর বের হলো, প্রেমিকা পাশে থাকায় খেলায় মনোযোগ ছিল না ক্যাসিয়াসের। আর সেটিরই মাশুল হিসেবেই গোল হজম করে ম্যাচ হারতে হয়েছে।
ক্যাসিয়াসের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটেছিল কি না, সেটি তিনিই ভালো জানেন। তবে প্রেমিকা সারা আসলেই কাছাকাছি ছিলেন। ম্যাচের সময় সারা ও তাঁর টিভি ক্রু স্পেনের গোলপোস্ট থেকে মাত্র ৬০ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এমনকি ম্যাচের পর সারা টিভির জন্য ক্যাসিয়াসের সাক্ষাৎকারও নেন। প্রেমিক বলেই ওই সাক্ষাৎকার—এমন ধারণাও ‘বাজার’ পেতে শুরু করে।
তবে সুইসদের কাছে হারলেও পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় স্পেন। গ্রুপপর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্যায়ে একের পর এক জয় তুলে উঠে যায় ফাইনালেও। এর মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত কিছু সেভ করে ক্যাসিয়াস বেশ প্রশংসিত হন।
শেষ পর্যন্ত জোহানেসবার্গের ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে শিরোপাও জিতে যায় ক্যাসিয়াসের দল। আর ফাইনালের তাৎক্ষণিক সেই উৎসবেই তাঁর ঠোঁটে ‘বিজয়ের চুমু’ আঁকেন ক্যাসিয়াস।
অতঃপর...
বিশ্বকাপের পর ক্যাসিয়াস–সারার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের প্রথম পুত্রসন্তান মার্তিনের জন্ম হয়। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে ক্যাসিয়াস রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোয় যোগ দিলে সারাও সেখানে যান। ২০১৬ সালের মার্চে তাঁরা বিয়ে করেন।
তবে দাম্পত্য জীবন খুব দীর্ঘ হয়নি। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন ক্যাসিয়াস।
তবে দুজনের সম্পর্ক না থাকলেও ২০১০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁরা গাথা পড়েছেন আজীবনের জন্যই।