৬৪ দলের বিশ্বকাপ হবে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’: ফিফার সমালোচনায় লা লিগা সভাপতি

লা লিগা সভাপতি তেবাসরয়টার্স

২০৩০ সালে যৌথভাবে বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসর আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। সেই বিশেষ বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের আলোচনা শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন উদ্যোগকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্প্যানিশ ফুটবল লিগ ‘লা লিগা’র সভাপতি হাভিয়ের তেবাস।

ইতালির বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক লা গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরও কড়া সমালোচনা করেন তেবাস। সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনোর মেয়াদের দিকে ইঙ্গিত করে লা লিগা প্রধানের ক্ষোভ, ‘এক দশক ধরে ফুটবল–বিশ্বের প্রধান সংস্থা পরিচালনা করছেন ইনফান্তিনো। তবে যে ব্যবস্থার ওপর ভর করে তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন, সেই ব্যবস্থাতেই বড় ধরনের ত্রুটি আছে। ফুটবলে ইনফান্তিনোর অধ্যায় এখন শেষের পথে।’

ফুটবলের বিশ্বায়ন ও অতিরিক্ত ম্যাচের ফলে ঘরোয়া ফুটবলের ক্ষতির দিকটি তুলে ধরে তেবাস বলেন, ‘বিশ্বকাপ যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন, ফুটবল বলতে শুধু বিশ্বকাপকেই বোঝায় না। তারা মাত্র ৪০ দিনের একটা টুর্নামেন্টের জন্য পুরো ফুটবল–শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অথচ এই ফুটবল লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং এখানে সাকল্যে গুটিকয়েক ফুটবলার অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।’

আরও পড়ুন

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি ২০৩০ সালে শতবর্ষী বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার বিষয়ে আলোচনার কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন। উল্লেখ্য, ২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে মূল আয়োজক হিসেবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এ ছাড়া শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনায়ও একটি করে ম্যাচ হবে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
এএফপি

ফিফার ফুটবল ক্যালেন্ডার ও অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তেবাসের সংযোজন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যস্ত সূচি নিয়ে আমরা বারবার নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আর এখন তারা ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের পাঁয়তারা করছে! তাদের বোঝা উচিত, ফুটবল খেলাটাকে মূলত বাঁচিয়ে রাখে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগগুলো।’

তেবাস আরও বলেন, ‘আমাদের এখন জাতীয় দলের ম্যাচ কমানো দরকার এবং সব স্তরের ঘরোয়া ফুটবলকে আরও সুরক্ষা দেওয়া উচিত। কিন্তু তারা এসব না ভেবে একের পর এক দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছে।’