ইউরোপিয়ান ‘ভূত’ তাড়াতে পারবে তো ব্রাজিল
ব্রাজিলের সামনে আবারও ‘ইউরোপিয়ান ভূত’। গত দুই দশকে ব্রাজিল এই ‘ভূত’ তাড়াতে পারেনি। এবার কি পারবে? নিউ জার্সির সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তরে মাতেউস কুনিয়া যেন ভূত তাড়ানো ‘ওঝা’ হয়ে গেলেন! ব্রাজিলের ৯ নম্বরের দাবি, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এবার নতুন গল্প লিখবেই।
কুনিয়ার মনে বুদ্বুদ তোলা সে গল্পের পটভূমি কিন্তু ভয়ের। ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল প্রতিবারই ইউরোপের দলের কাছে হেরে বিদায় নেয়। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া—এই সময়ে একেকটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন–হন্তারক। এবার শেষ ষোলোয় তাদের সামনে নরওয়ে। অতীত ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে এ ম্যাচের আগে যেকোনো ব্রাজিল সমর্থকেরই একটু ভয়ে থাকার কথা।
বিশ্বকাপে কখনো শেষ ষোলোর ওপাশে যেতে না পারা নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল চারবারের মুখোমুখিতে একবারও জয় পায়নি। এর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ের ২–১ গোলের সে জয় তো উত্তরের দেশটির ফুটবল ইতিহাসেই অন্যতম সেরা। কিন্তু কুনিয়া এবার সংকল্পবদ্ধ, ‘অতীতের ভূত তাড়াতে মাঠে নিজেদের কাজটা করতেই হবে। আশা করি এবার আমরা নতুন গল্প লিখতে পারব।’
শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে জাপানকে ‘গুড বাই’ বলার পর ব্রাজিলের নতুন গল্প লেখার পালে হাওয়ার জোর বেশ বেড়েছে। কারণ, আনচেলত্তির ব্রাজিল যত ম্যাচ খেলছে, আক্রমণে ধার বাড়ার সঙ্গে রক্ষণও তত জমাট হচ্ছে। আক্রমণে ভিনি এবং কুনিয়া যদি হন ব্রাজিলের ‘ফলা’, রক্ষণের ‘বর্ম’ তাহলে নিশ্চয়ই দানিলো–দগলাস সান্তোসরা?
দগলাস কী বলছেন শুনুন, ‘নরওয়েকে হারাতে না পারার যে কলঙ্ক, সেটা ঘুচিয়ে ফেলা আমাদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হতে পারে।’ তাতে সম্ভবত বড় চমক হতে পারেন কুনিয়া। ৩ গোল করা এই ফরোয়ার্ড নিচে নেমে গোল ঠেকানোতেও বেশ ভালো করায় শুক্রবার তাঁকে অনুশীলনে দেখা গেল সেট পিস ঠেকাচ্ছেন!
মরিসটাউনে সে অনুশীলনে ছিলেন ১৫ জন নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক। তাদের সৌজন্যে খবরটা নরওয়ে শিবিরে পৌঁছে যাওয়ার কথা। সবাই জানেন নরওয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ম্যাচ আসলে আর্লিং হলান্ড বনাম ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার হলান্ডকে ঠেকাতে প্রিমিয়ার লিগ ও বুন্দেসলিগায় মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে কুনিয়া ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের। যদিও তার আগে ব্রাজিলের মাঝমাঠের একটা দায়িত্ব থাকে। আর সেখানেই লেগেছে বেশ বড় একটা ধাক্কা।
চোট পেয়ে ছিটকে পড়েছেন মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। তাঁর জায়গায় কে—ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি তা গোপন রাখলেও অনুশীলনে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে পাকেতার জায়গায় খেলতে দেখা গেছে। আরও খোলাসা করে বললে জাপান ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের যে একাদশ ছিল, সেটা ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে অনুশীলনে পরখ করেন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচের হলান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের জায়গাও আছে। ক্লাব ফুটবলে আটবার হলান্ডের মুখোমুখি হয়ে আনচেলত্তি জিতেছেন ও হেরেছেন দুবার করে, ড্র চারবার।
কেইটেল রেকডালের এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই। ২৮ বছর আগেই বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলের হার নিশ্চিত করা রেকডাল এ ম্যাচে নরওয়েকে এগিয়ে রাখবেন, সেটাই স্বাভাবিক, ব্রাজিলই এ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চাপে থাকবে। আবারও পা হড়কাতে পারে, সেই ভয় থাকবেই।
তা থাকতেই পারে। তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে বল কেড়ে গোল আদায়ে কিন্তু এ বিশ্বকাপে ব্রাজিল সবার ওপরে। এ পর্যন্ত ৯ গোলের চারটিই এভাবে আদায় করেছে আনচেলত্তির নতুন ব্রাজিল। নরওয়ে কোচ স্তালে সলবাক্কেনের দুশ্চিন্তার জায়গা হলো, তাঁদের রক্ষণভাগের বক্সের আশপাশে বল হারানোর প্রবণতা আছে। ওহ্, আরও একটি বিষয়, তাঁর দুশ্চিন্তা বাড়াতে ম্যাচের শেষ দিকে বদলি নামতে পারেন নেইমার। ইউরোপিয়ান ভূত তাড়াতে ব্রাজিল সম্ভবত কিছুই বাদ রাখবে না!