মেসিকে পুরস্কার ও ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলারে’র স্বীকৃতি দিল স্পেন

পুরস্কার নিয়ে ফিরছেন মেসি। পেছনে দাঁড়িয়ে স্পেনের প্রিন্সেস লিওনরএএফপি

সবাই জানত, স্পেনের ওভিয়েদোতে লিওনেল মেসির উপস্থিতি সাধারণ কোনো ঘটনা হবে না। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে স্পেনে ফেরার পর থেকেই মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা শুরু হয়েছে। কিংবদন্তিকে বরণ করে নিতে ওভিয়েদোর রাস্তায় দুপাশে দাঁড়িয়েছিল হাজারো মানুষ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, মেসিকে ঘিরে কদিন ধরে যেমন উন্মাদনা চলছে সেটা ২০২৩ সালে হলিউড কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপের সফরকেও ছাড়িয়ে গেছে!

ক্যাম্পোয়ামোর থিয়েটারে মেসি সেই উন্মাদনার মাঝেই গতকাল রাতে স্পেনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণ করেন স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে। তাঁর নামেই এ পুরস্কারের নামকরণ। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কারটি পেলেন মেসি। গত জুনেই তাঁকে ক্রীড়াক্ষেত্রে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। জুরিবোর্ড তাঁকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলার’ বলার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক কাজেরও প্রশংসা করে।

প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন মেসি
এএফপি

উত্তর স্পেনের আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে মেসি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান উৎসবমুখর পরিবেশে। ব্যাগপাইপ ও ড্রামের বাজনা এবং আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিত বহু সমর্থকের উল্লাসের ভেতর দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান কিংবদন্তি।
মঞ্চে প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সনদ গ্রহণ করেন মেসি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় প্রতিটি বিজয়ীকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন প্রিন্সেস লিওনর। মেসিকে নিয়ে তাঁর বক্তৃতায় স্পোর্টিং গিহনের সাবেক এক খেলোয়াড়ের উদ্ধৃতি স্থান পায়। তবে সেই খেলোয়াড়টি কে, তা জানা যায়নি।

আরও পড়ুন

প্রিন্সেস লিওনর বলেন, ‘জানি না আর কোনো কিংবদন্তি সবাইকে একই অনুভূতিতে গাঁথতে পেরেছেন কি না। একটি মুহূর্ত, গোলের জন্য সবাই যখন অপেক্ষা করে, তখন সবাইকে এক সূত্রে গাঁথা হয়ে যায়। এ কারণেই মেসির দিকে এবং তাঁর অতুলনীয় ক্যারিয়ারে তাকানোটা অর্থবহ। এটি আমাদের সামনে আর্জেন্টাইন ফুটবলারের এক দারুণ সংজ্ঞা তুলে ধরে। স্পোর্তিং গিহনের এক সাবেক খেলোয়াড়ের ভাষায়, “তিনি মুহূর্তের দশ ভাগের এক ভাগে সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অহংকারকে ছাপিয়ে দলগত চেতনাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।”’

পুরস্কার জয়ের পর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেসি লেখেন, ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড পাওয়াটা দারুণ সম্মানের। সব পুরস্কারজয়ীকে অভিনন্দন, আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হয়ে দারুণ সময় কেটেছে।’

পুরস্কার বিজয়ীদের সঙ্গে মেসি (পেছনের কাতারে সবার বাঁয়ে)
এএফপি

বার্সেলোনায় ২১ বছর কেটেছে মেসির। ২০০০ সালে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে চলে যাওয়ার আগে ক্লাব ফুটবলে এমন কোনো শিরোপা নেই যে জেতেননি। এই বার্সাতেই তাঁর বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা। কাতালান ক্লাবটি ছেড়ে পিএসজিতে দুই বছর কাটিয়ে এখন ইন্টার মায়ামিতে ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারে গোধূলিলগ্নে আছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি।

১৯৮১ সালে চালু হওয়া ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ স্প্যানিশভাষীদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। এর সঙ্গে ৫০ হাজার ইউরো প্রাইজমানি দেওয়া হয়। মানব সহাবস্থান, সংহতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রসারে শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।গত শুক্রবার পুরস্কার গ্রহণ করা অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, মার্কিন মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাংক স্টার প্যাটি স্মিথ।

ক্রীড়াক্ষেত্রে এর আগে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন রেকর্ডধারী এলিয়ুদ কিপচোগে এবং মার্কিন স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।

স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ফেরার আগে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন মেসি। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে কোভাদোঙ্গা কক্ষে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় সংবর্ধনায় অংশ নেন। রাজা এবং রানি ছাড়া এবারই প্রথম একা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রিন্সেস লিওনর।

প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে একটি সনদ পান মেসি
এএফপি

অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন এই কোচ। গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

মেসিকে নিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘খেলাধুলা ও ফুটবলে মেসি যে ঐতিহ্য রেখে যাচ্ছেন, তা ব্যতিক্রমী। একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বহু মূল্যবোধের এক অসাধারণ উদাহরণ।’