ইতালিয়ান ফুটবলে ভূমিকম্প : বুফনের পদত্যাগ, গাত্তুসোও কি যাচ্ছেন
টানা তৃতীয়বারের মতো ইতালি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঝড় বইছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনে (এফআইজিসি)। গতকাল রাতে এফআইজিসি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা।
তাঁর পথ ধরে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ইতালির ফুটবল প্রতিনিধিদলের প্রধান ও কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন। দীর্ঘ ও আবেগঘন এক বিবৃতিতে নিজের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। এবার ফাইনাল প্লে–অফ ম্যাচে টাইবেকারে ইতালি হেরেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে।
বিব্রতকর এই বিদায়ের পর থেকে ইতালি ফুটবলে যেন ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। গ্রাভিনার পর বুফনের পদত্যাগ সেই ভূমিকম্পেরই অংশ। বিবৃতিতে বুফন বলেন, ‘বসনিয়া ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট পরই পদত্যাগপত্র দেওয়া ছিল একেবারে আবেগী সিদ্ধান্ত। এটা মনের গভীর থেকে উঠে আসা বিষয়। যেমনটা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল আমার চোখের পানি আর বুকের ভেতরের কষ্ট। এই কষ্ট আমি আপনাদের সবার সঙ্গেই ভাগ করে নিচ্ছি।’
ইতালির হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী বুফন বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘আমাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, যেন সবাই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে পারে। প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, আমি নিজেকেও একই কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাধীন মনে করছি। কারণ, জেনারো গাত্তুসো ও তাঁর কোচিং স্টাফের সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যেই দলীয় সংহতির দিক থেকে অনেক কিছু গড়ে তুলতে পেরেছিলাম বলে আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি। কিন্তু জাতীয় দলের মূল লক্ষ্য ছিল ইতালিকে আবার বিশ্বকাপে ফেরানো, আমরা সেটাই করতে পারিনি।’
যোগ্য কাউকে বেছে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বুফন বিবৃতিতে বলেন, ‘আমার পরে যাঁরা দায়িত্ব নেবেন তাঁদের জন্য ন্যায্য হবে যে, তাঁরা নিজেরা যাকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করবেন, সেই ব্যক্তিকে আমার স্থলে নিয়োগের স্বাধীনতা থাকবে। জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য সম্মানের, আর ছোটবেলা থেকেই এটি আমার গভীর আবেগের জায়গা।’
অর্পিত দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান বুফন, ‘আমি আমার দায়িত্ব পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রকে একটি সংযোগ হিসেবে দেখেছি—যে সংযোগটি বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কোচের সঙ্গে মিলিতভাবে এমন একটি প্রকল্প গঠন করার চেষ্টা করেছি, যা ছোটদের থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-২১ দল পর্যন্ত পৌঁছাবে।’
২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের পোস্টে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন বুফন। দেশের হয়ে রেকর্ড ১৭৬টি ম্যাচ খেলা বুফন গাত্তুসোর ইতালির কোচ পদে নিয়োগ পাওয়ায় ভূমিকা রাখেন। কিন্তু ইতালি ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইউরোপের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাত্তুসোর কোচ পদে না থাকার সম্ভাবনাই খুব বেশি।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাত্তুসোর জায়গায় চারজন কোচের নাম উঠে এসেছে আলোচনায়—রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ও পেপ গার্দিওলা। এই দৌড়ে মানচিনি এগিয়ে বলে জানিয়েছে ‘লা গাজেত্তা দেয়ো স্পোর্ত।’ মানচিনির হাত ধরে ২০২০ ইউরো জিতেছে ইতালি।