ম্যান সিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করল প্রিমিয়ার লিগ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরই দ্য অ্যাথলেটিক এবং বিবিসি এই খবর দিয়েছিল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে এই খবর। প্রিমিয়ার লিগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের সব কটি অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
একটি স্বাধীন কমিশন জানিয়েছে, উল্লিখিত সময়ে ক্লাবটি তাদের বেশ কিছু বাণিজ্যিক সহযোগীর সঙ্গে ‘ভুয়া চুক্তি’ করেছিল। পাশাপাশি ‘কৃত্রিমভাবে ক্লাবের আয় বাড়িয়ে দেখানো এবং খরচ কমিয়ে দেখানোর জন্য তারা ভুয়া চুক্তির আশ্রয় নিয়েছিল।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্তে সহযোগিতা না করার বেশির ভাগ অভিযোগেও সিটিকে দোষী পাওয়া গেছে।
কমিশনের প্রতিবেদনের একটি সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে প্রিমিয়ার লিগ। সেখানে বলা হয়, অভিযোগগুলো ‘চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে শতাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত।’
প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে অসহযোগিতা সংক্রান্ত মাত্র একটি অভিযোগ ছাড়া বাকি সব কটি অভিযোগেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে কমিশন। ভুয়া বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোকে প্রায় ৮৩ কোটি ৬৯ লাখ পাউন্ডের এক ‘ছদ্মবেশী অর্থায়ন পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স বলেন, ‘মূল সিদ্ধান্তটি প্রকাশ করে দিয়েছে যে সেই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে আসলে কী ঘটেছিল। এতে বিস্তারিত উঠে এসেছে কীভাবে ক্লাবটি প্রায় এক দশক ধরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ভেঙেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তাও এতে প্রমাণিত হলো। যদিও এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও কঠিন ছিল, তবে লিগ সব সময় স্বাধীনভাবে সত্য উদ্ঘাটনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।’
মাস্টার্স বলেন প্রিমিয়ার লিগের সুনাম বজায় রাখাই তাদের মূল উদ্দেশ্য, ‘ক্লাবগুলোর নিজেদের অনুমোদন করা নিয়মগুলো যেন বজায় থাকে এবং প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা রক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করা প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সব ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য লিগটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ফেয়ার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই দায়িত্বটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি।’