২০৩৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হতেও আবেদন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএএফপি

মেক্সিকো আর কানাডা সঙ্গী হিসেবে আছে ঠিকই; কিন্তু এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রই। ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশটিতে। তবে এসবের সঙ্গে কিছু বিতর্কও আছে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে—দর্শকদের টিকিটের দাম আর ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা আছে প্রায় প্রতিদিনই।

তবে এবারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই আরও একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এককভাবে নিজেদের মাটিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।

চলতি আসরে ফুটবল বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮টি করা হয়েছে। তবে ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে এই পরিধি আরও বাড়িয়ে ৬৪ দল করার কথা ভাবছে। বিবিসির কাছে গিলিয়ানোর দাবি, এত বড় কলেবরের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না, ‘ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ যদি ৬৪ দলেরও হয়, তা সফলভাবে সামাল দেওয়ার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের আছে।’

সরাসরি না বললেও গিলিয়ানোর কথায় স্পষ্ট ইঙ্গিতই ছিল এক যুগের মধ্যে আরও একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করার ইচ্ছার, ‘২০৩৮ সালের বিড নিয়ে মাতামাতি করার আগে, আমরা চলমান বিশ্বকাপটা নির্বিঘ্নে শেষ করতে চাই।’

২০৩৮ সালের বিশ্বকাপই হবে পরবর্তী টুর্নামেন্ট, যেটির জন্য নতুন করে বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরের দুটি বিশ্বকাপের ভেন্যু এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। যদিও শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে প্রথম তিনটি ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের একক আয়োজক সৌদি আরব।

ইরান ফুটবল দল
এএফপি

এবারের বিশ্বকাপ চলার সময়ই অনেক রকম সমালোচনা শুনতে হচ্ছে ফিফাকে। গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে ১২০টির বেশি দেশের খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও দর্শকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করে। পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্রাতিরিক্ত ভ্রমণ খরচ বৃদ্ধির কারণেও তীব্র সমালোচনা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করেও অনেক সমালোচনা হচ্ছে। ইরানকে যেমন ম্যাচ খেলে সঙ্গে সঙ্গেই আবার মেক্সিকোতে ফিরতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের আগে–পরে তাদের থাকার সুযোগ নেই।
তবে এসব ছাপিয়ে ২০৩৮ বিশ্বকাপটাও আয়োজন হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রই। ব্যবসায়িকভাবে সেটি লাভজনক হবে ফিফার জন্যও। যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজার ধরতে এর মধ্যেই ফিফার আইন বিভাগ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে সরিয়ে ফ্লোরিডায় নিয়ে গেছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের পরিচালক গিয়ালিনো বলেছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে উপযুক্ত দেশ আর একটিও নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এখানে আসা ফুটবল–ভক্তদের প্রতিক্রিয়া দেখলেই তা বোঝা যায়। যাঁরা প্রথমবার বা দীর্ঘদিন পর এখানে এসেছেন, তাঁরা দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কতটা অতিথিপরায়ণ।

অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ অনেক কম হয়েছে জানিয়ে গিলিয়ানো বলেন, ‘আমাদের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো আগে থেকেই তৈরি ছিল। যেখানে অন্য দেশগুলোর হাজার কোটি ডলার খরচ হয়, সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র কয়েক বিলিয়ন।’

আরও পড়ুন