ভার্জিল ফন ডাইক মুখিয়ে ছিলেন লিভারপুলে তাঁর সাবেক সতীর্থ সাদিও মানের সঙ্গে দেখা করার জন্য। সেই পুনর্মিলনী হয়নি, তবে মানের জাতীয় দলের সতীর্থ কালিদু কুলিবালি, পাথে সিস, ইসমাইলিয়া সাররা নেদারল্যান্ডসকে কঠিন সময়ই উপহার দিয়েছেন।

রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি নেদারল্যান্ডস। এর আগে ২০১৬ সালে ইউরোতেও জায়গা হয়নি ২০১০ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পাওয়া ‘কমলা বাহিনী’র। তবে এবারের নেদারল্যান্ডস দলটা বেশ ভালো, অন্তত সেমিফাইনালে যাওয়ার মতো বলে মনে করছেন অনেকেই। সেই দলের তাই মানে-বিহীন সেনেগালের সঙ্গে সহজ জয়ই ছিল প্রত্যাশিত।

শুরুটা হয়েছিল সেনেগালের আক্রমণ দিয়েই। তবে সেই আক্রমণ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া কর্নারটি ফিরিয়েই নিজেদের গুছিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় নেদারল্যান্ডস। সত্যিকারের প্রথম গোলের সুযোগটা তৈরি করেছিল তারাই। কোডি গাপকোর ক্রস থেকে সেনেগালের গোলমুখে বলে পা লাগাতে ব্যর্থ হন স্টিভেন বের্গভাইন। ৯ মিনিটে পাপে আবু সিসে বক্সের মাথা থেকে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করেছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। তবে ম্যাচের ১১ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত নেদারল্যান্ডস। সেটি ছিল দারুণ একটা সুযোগ। বের্গভাইন ডান প্রান্তে স্টিভেন বের্গহোইসকে বল ঠেলে দিলে তিনি দারুণ এক ক্রস বাড়িয়েছিলেন গোলমুখে। সেখানে বেশ ভালো জায়গায় বল পেয়েছিলেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। কিন্তু তিনি প্রথম সুযোগেই গোলে শট না নিয়ে কারিকুরি করতে গিয়ে এলোমেলো করে ফেলেন। নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় নেদারল্যান্ডস।

প্রথমার্ধে সেনেগালও দাপট দেখিয়েছে। তবে পরিষ্কার কোনো সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি তারা। ডাচ রক্ষণভাগে ফন ডাইকের নেতৃত্বে ইয়ুরিন টিম্বার, ম্যাথিয়াস ডি লিখট, নাথান আকেদের ডাচ-রক্ষণ সেনেগালের আক্রমণের ঢেউগুলো সামলেছে ভালোভাবেই।

দ্বিতীয়ার্ধে বরং গতি হারিয়েছিল ম্যাচটি। দুই দলই সতর্ক ছিল গোল না খাওয়ার ব্যাপারে। এই অর্ধের শুরুর দিকে ডাচদের তুলনায় সেনেগালই বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। গোলও পেতে পারত তারা। ৬৫ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্তে বল পেয়ে পাপে গেয়ের নেওয়া শট নেদারল্যান্ডসের অভিষিক্ত গোলকিপার আন্দ্রিস নোপের্ট নিজের বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন। ৭৩ মিনিটে পাপে গেয়ে তিন ডাচ রক্ষণসেনার মধ্য দিয়ে বল নিয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন। নোপের্ট ঠেকিয়ে দেন সেটিও।

ওদিকে সেনেগালের রক্ষণ কাঁপিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়কও। গাকপোর কর্নার থেকে ফন ডাইকের দুর্দান্ত হেড সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দির মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। ভিনসেন্ট ইয়ানসেনের জায়গায় নেদারল্যান্ডস কোচ মেম্ফিস ডিপাইকে নামালেও সেনেগালের রক্ষণভাগকে সেভাবে বিপদে ফেলতে পারেননি।

অবশেষে নেদারল্যান্ডসের ভাগ্য খোলে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে। গাপকো আর ক্লাসেনের গোলে দূর হয় পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা।

২৫ নভেম্বর নেদারল্যান্ডস গ্রুপে পরের ম্যাচটা খেলবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে। একই দিনে সেনেগাল খেলবে কাতারের বিপক্ষে।