২০৭৮ কোটি টাকা খরচের ‘ফল’ পেতে শুরু করেছে লিভারপুল

গোলের পর আলেকসান্দার ইসাকের উদ্‌যাপনরয়টার্স

লিভারপুল ফল যে একদমই পায়নি, তা নয়।

গত মৌসুমে ২২ ম্যাচে ১০৩৩ মিনিট খেলে করেছিলেন ৪ গোল। অর্থাৎ প্রতি ২৫৮ মিনিটে ১টি গোল। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ৩ গোল, ১৪ ম্যাচে ৭০৩ মিনিট খেলে—প্রতি ২৩৪ মিনিটে ১ গোল। কিন্তু ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ২০৭৮ কোটি টাকা) খরচের ব্রিটিশ রেকর্ড গড়ে কাউকে কেনার পর তাঁর কাছ থেকে এই পারফরম্যান্সকে যে সত্যিকার অর্থে ‘ফল’ বলা যায় না, সেটা লিভারপুলের সমর্থকও মানবেন।

আর্থিক অঙ্কটা দেখে নিশ্চয়ই এতক্ষণে ধরে ফেলেছেন, কার কথা বলা হচ্ছে। সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাক। প্রিমিয়ার লিগে গতকাল রাতে ইপসউইচ টাউনের মাঠে লিভারপুলের ২-০ গোলে জয়ের পর ইসাকের পারফরম্যান্স নিয়ে বিবিসি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘১২ মাস আগে নিউক্যাসল থেকে (লিভারপুলে) যোগ দেওয়ার পর সুইডিশ স্ট্রাইকারের সবচেয়ে বিধ্বংসী পারফরম্যান্স।’

বক্সের ভেতর থেকে গোল করছেন ইসাক
রয়টার্স

এতক্ষণে সেই পারফরম্যান্সও নিশ্চয়ই জানা হয়ে গেছে? ২টি গোলই ইসাকের, ম্যাচের ৬ ও ৯ মিনিটে। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে ৩ ম্যাচে ৩ গোল হয়ে গেল ইসাকের। অর্থাৎ গত মৌসুমে ২২ ম্যাচ খেলে ইসাক যে পারফরম্যান্স করেছিলেন, এবার সেটা অনূদিত করতে লিগে মাত্র তিন ম্যাচ লাগল তাঁর। লিভারপুলের সমর্থক এখন ভাবতেই পারেন, এই তো ইসাককে কেনার ‘ফল’ মিলতে শুরু করেছে!

দুই মৌসুম আগে নিউক্যাসলের হয়ে এই পোর্টম্যান রোডেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইসাক। এবার লিভারপুলের হয়েও হ্যাটট্রিক পাওয়ার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইসাক। অফসাইডের কারণে তাঁর ১টি গোল বাতিল হয়।

আরও পড়ুন

ইসাকের ফর্মে ফেরা নিয়ে ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা বলেন, ‘আমাদের দলের জন্য সে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক খেলোয়াড়। আমি জানি সে এখন পুরোপুরি ফিট ও ভালো ছন্দে আছে এবং নিয়মিত গোল করে যাবে। তার সঙ্গে আমার মূল কাজটা অবশ্য অন্য বিষয় নিয়ে—দলের সব ধরনের পরিস্থিতিতে সে কীভাবে অবদান রাখতে পারে, সেটাই দেখা।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসল থেকে লিভারপুলে যোগ দেন ইসাক। দেরিতে দলে আসায় সতীর্থদের চেয়ে শারীরিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। পরে ভাঙা পা আর পেশির চোটে জর্জর হয়ে পুরো মৌসুমে ঠিকমতো মাঠে নামতে পারেননি। তখন তাঁকে একদমই অচেনা মনে হয়েছে। লিভারপুলের আরেক স্ট্রাইকার উগো একিতেকের কাছে ম্লান হয়ে পড়েন। আর্নে স্লটের অধীনে লিভারপুলের শিরোপা ধরে রাখার ব্যর্থ অভিযানে অন্য সতীর্থদের মতো ইসাকও ভুগেছেন দারুণভাবে।

কিন্তু স্লটের জায়গায় কোচের দায়িত্ব নেওয়া ইরাওলার অধীনে সেই ইসাকই এখন চেনা রূপে। সেটা শুধু গোল করায় নয়। মাঠে তাঁর খেলার ধরন নিউক্যাসলের দিনগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। প্রথম গোলটি কোডি গাকপোর নিখুঁত পাসে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে। দ্বিতীয় গোলটি তো আরও ঠান্ডা মাথায়। অফসাইডের ফাঁদ এড়াতে বক্সে ঢোকার আগে নিজের দৌড় নিয়ন্ত্রণ করেন ইসাক। এবার গাকপোর ‘ট্রিভেল্লা’ পাস ধরে ইপসউইচের বক্সে নিজের মাথা ঠান্ডা রাখেন ইসাক। গোলরক্ষক শেরপেন কাছে চলে এলেও বাঁ পায়ের দারুণ শটে গোল করেন।

ইসাককে লিভারপুলের ফিরে পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ইরাওলার কৌশল। সুইডিশ তারকাকে তাঁর সেরা ভূমিকায় ব্যবহার করেন লিভারপুল কোচ—ডিফেন্ডারদের পেছন দিয়ে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢোকা ও অলআউট প্রেস করা। নিউক্যাসলে থাকতে এভাবে খেলায় তাঁকে বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ফুটবলার মনে করেছিলেন অনেকেই।

ইপসউইচের বিপক্ষে জয়ের পর লিভারপুলে নিজের প্রথম মৌসুম নিয়ে ইসাক বলেন, ‘সময়টা একেবারেই সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের চোটের ধাক্কা এবং সার্বিকভাবেই মৌসুমটা বেশ কঠিন কেটেছে। কঠিন দিনগুলো এখন পেছনে ফেলে এসেছি, তবে শুরুটা আসলেই সহজ ছিল না।’ নতুন মৌসুমে নিজের ভালো শুরু নিয়ে লিভারপুলকেই সামনে টেনে আনলেন ইসাক, ‘প্রাক্‌-মৌসুম প্রস্তুতির পর আমরা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত খেলার শৈলীতে ফিরতে শুরু করেছি। মূল লক্ষ্যই হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা। আমার মনে হয় আমরা সেটা করতে পেরেছি। ২টি গোল করেছি, তবে গোলের সুযোগ ছিল আরও বেশি।’