আর্জেন্টিনা কেন প্রীতি ম্যাচে দুর্বল দলের মুখোমুখি হয়, পারফরম্যান্স কেমন

আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলনে লিওনেল মেসি। গতকাল বুয়েনস এইরেসের এজেইজায়এএফপি

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে স্বাগতিক হয়ে মৌরিতানিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। ১ এপ্রিল ভোরে দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জাম্বিয়া।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়। মৌরিতানিয়া ১১৫তম এবং জাম্বিয়া ৯১তম দল। অর্থাৎ প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার এই দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের শক্তির পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ব্যাপারটা এবারই যে প্রথম তা নয়। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত কোনো ইউরোপিয়ান দলের মুখোমুখি হয়নি। আরও খোলামেলা করে বললে, এ সময়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ২০-এ থাকা কোনো দলের বিপক্ষে খেলেনি আর্জেন্টিনা। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে স্কালোনির অধীনে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সের খতিয়ানটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

কোচ স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা গত ৮ বছরে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা জিতেছে। তবে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের ভিতও মজবুত করেছেন স্কালোনি। আর সেটার বেশ স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচে। স্কালোনি ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর অধীনে এ পর্যন্ত ৩০ ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এসব ম্যাচে আর্জেন্টিনার সফলতার হারও অনেক বেশি। ২৪ জয়, ৪ ড্র ও ২ হার। এই নামমাত্র হারই বলে দেয় স্কালোনি তাঁর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অপরাজিত থাকার মানসিকতা তৈরি করেছেন। সম্ভবত এটাই আর্জেন্টিনা দলের সাফল্যের মূলমন্ত্র।

আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি
এএফপি

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে স্কালোনির দীর্ঘ পথচলায় হার দুটি এসেছিল একদম শুরুর দিকে। ২০১৯ সালের মার্চে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩-১ এবং ২০১৮ সালের অক্টোবরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ স্কালোনি জমানার শুরুর দিকে দুটি হার বাদ দিলে আর্জেন্টিনার অপরাজেয় যাত্রা প্রায় অপ্রতিরোধ্য।

ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে সেই হারের পর থেকে যেন হারতেই ভুলে গেছে আর্জেন্টিনা। এরপর টানা ২৩টি প্রীতি ম্যাচে হারেনি আর্জেন্টিনা, যার মধ্যে টানা ১৫টি ম্যাচেই এসেছে জয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে জয় দিয়ে নিজেদের এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রা আরও সুসংহত করে স্কালোনির দল।

আরও পড়ুন

এই অপরাজেয় যাত্রায় আর্জেন্টিনা বেশ কিছু দাপুটে জয়ও পেয়েছে। নিকারাগুয়া (৫-১), ইকুয়েডর (৬-১), এস্তোনিয়া (৫-০), কুরাসাও (৭-০), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৫-০) এবং পুয়ের্তো রিকোকে (৬-০) বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। এ বিশাল জয়গুলো বলে দেয়, প্রীতি ম্যাচও কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় আর্জেন্টিনা। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার বড় জয় পাওয়া এসব ম্যাচে তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো প্রতিপক্ষ একটিও নেই।

প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা কেন বেশির ভাগ সময় দুর্বল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়—এমন প্রশ্ন তুলেছে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত প্রীতি ম্যাচে কোনো ইউরোপীয় দল কিংবা ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ থাকা কোনো দলের মুখোমুখি হয়নি।’

প্রথম আলো গ্রাফিকস

সংবাদমাধ্যমটি একটি তুলনাও টেনেছে—স্কালোনির দল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ থাকা কোনো দলের মুখোমুখি না হলেও ব্রাজিল এ সময়ে খেলেছে ১০টি বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে। এমনকি কলম্বিয়াও শীর্ষ পর্যায়ের ৯টি দলের মুখোমুখি হয়েছে।

আর্জেন্টিনা গত বছর ভেনেজুয়েলা, পুয়ের্তো রিকো ও অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে খেলেছে। ২০২৪ সালে এল সালভাদর, কোস্টারিকা, ইকুয়েডর আর গুয়াতেমালার মুখোমুখি হয় তারা। এর আগে ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনা খেলেছে পানামা, কুরাসাও, ইন্দোনেশিয়া আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ ২-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। তখন ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ছিল ২৯তম। গত চার বছরে প্রীতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলগুলোর র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ।

লেকিপ এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দলগুলোর তালিকায় টিকে থাকতে বেশির ভাগ সময় অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাইরে নিজেদের সর্বশেষ ১১ ম্যাচের সবকটিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় স্থান সুসংহত করতে এসব জয় বড় ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন