নরওয়ে ১-২ পর্তুগাল
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বেঞ্চে। ওয়েলসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে গোলের সহজ সুযোগ নষ্টের কারণে? হতে পারে। চোটের কারণে ছিলেন না ব্রুনো ফার্নান্দেজও। ওদিকে সামনে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। খেলতে হবে তাঁদেরই ঘরের মাঠে। পর্তুগাল সমর্থকদের মনে কু-ডাক দেবে না কেন!
অসলোয় শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের কোনো অমঙ্গল হয়নি। নরওয়ে গোলকিপার ওরইয়ান নিলান্ড তা হতে দেননি!
সর্বশেষ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিদায়ে ‘যথেষ্ট’ (পেনাল্টি ঠেকিয়ে) ভূমিকা ছিল নিলান্ডের। ভূমিকা রইল আজ নেশনস লিগে পর্তুগালের বিপক্ষে নরওয়ের ২-১ গোলের হারেও।
ম্যাচে তখন ৫৫ মিনিট। নরওয়ে ১-১ গোলে সমতায় ফিরেছে মিনিট তিনেক আগে। নিলান্ডের কী হলো কে জানে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পর্তুগাল স্ট্রাইকার গনসালো রামোসকে পাস দিলেন! বলটা যেভাবে সামনে ঠেলেছেন তাতে আসলে ‘পাস দেওয়া’ই বলতে হয়। এই সুযোগ কে ছাড়ে! রামোসও আলতো চিপে বল পাঠান জালে। রোনালদোর জায়গায় নামা রামোসের ওই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।
রামোস গোল পেতে পারতেন আরও। পর্তুগাল এগিয়ে যাওয়ার পর পরই রাফায়েল লেয়াওয়ের শট পোস্টে লাগলে ফিরতি বলে রামোস বাইরে মারেন। এর কিছুক্ষণ পর অবশ্য বল জালে পাঠান। তাতেও বেশ বড় ভূমিকা ছিল নিলান্ডের । পায়ের সামনে আসা বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। রামোস তার আগেই বলটি ছোঁ মেরে নিয়ে জালে পাঠান। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে।
পর্তুগাল এগিয়ে গিয়েছিল ১৭ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে পেদ্রো নেতোর পাস পেয়ে বক্সের সামনে দারুণ শটে গোল করেন জোয়াও ফেলিক্স। এবার নেশনস লিগে পর্তুগালের দুই ম্যাচেই গোল পেলেন। পিছিয়ে পড়ার পর গোলে শোধে উঠেপড়ে লাগে নরওয়ে। প্রথমার্ধেই তিনটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন হলান্ড। এর মধ্যে ২০ মিনিটের পরপরই পাওয়া সুযোগটি থেকে হলান্ড কীভাবে গোল পেলেন না সেটা তিনিই ভালো জানেন। বক্সে আলতো টোকায় নিশ্চিত গোল রুখে দেন হলান্ডেরই সিটি সতীর্থ রুবেন দিয়াজ।
শেষ পর্যন্ত বিরতির পর ৫১ মিনিটে গোল পান হলান্ড। ফ্রি কিক থেকে ফিরতি বলে নেশনস লিগে রেকর্ড ২২তম গোলটি পান। নরওয়ের হয়ে এটা হলান্ডের ৬৫তম গোল। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ১৭ ম্যাচের ১৬টিতেই গোল পেলেন। কিন্তু হলান্ডের গোলও শেষ পর্যন্ত নরওয়েকে পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি।
‘এ’ লিগে চতুর্থ গ্রুপে ২ ম্যাচই জিতে শীর্ষে পর্তুগাল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নরওয়ে। একই গ্রুপ থেকে অন্য ম্যাচে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারায় ডেনমার্ক। নরওয়ের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তিনে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়া ডেনমার্ক।