রুলি নাকি মুসো— কে হবেন মার্তিনেজের বিকল্প

আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজরয়টার্স

বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে মূল গোলরক্ষক ও দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে ঘিরে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা দলে। হাতে চোট থাকায় মার্তিনেজের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কোচিং স্টাফরা।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা থাকলেও এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। যে কারণে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটিকে ব্যবহার করা হবে মার্তিনেজের বিকল্প নির্ধারণে। যেখানে লড়াই করবেন দলের অন্য দুই গোলরক্ষক গোরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসো।

পরিসংখ্যান বলছে, ধারাবাহিকতা ও অতীত রেকর্ডের বিচারে মার্তিনেজের বিকল্প হিসেবে রুলিই এগিয়ে। রুলি বর্তমানে মার্সেইয়ের হয়ে খেলেন। আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলের হয়ে তিনি সাতটি অফিশিয়াল ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে দল কোনো ম্যাচ হারেনি এবং গোলও হজম করেছেন মাত্র ২টি। রুলির সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পেরুর বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন

পাশাপাশি রুলি ছিলেন আর্জেন্টিনার সেই দলের সদস্য, যারা ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জিতেছে। ফলে বড় টুর্নামেন্টে দলকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত মৌসুমে মার্সেইয়ের হয়ে ৩৯ ম্যাচ খেলেছেন। লিগ আঁতে পঞ্চম হওয়া দলটির হয়ে তিনি ৫২ গোল হজম করেন।

আর্জেন্টিনার বিকল্প গোলরক্ষক রুলি
ইনস্টাগ্রাম/রুলি

অন্যদিকে হুয়ান মুসো রুলির মতো নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলেও মৌসুমের শেষ দিকে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছেন। ইয়ান অবলাকের চোটের কারণেই মূলত দলের গোলবার সামলাতে হয় তাঁকে।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুসো দারুণ নৈপুণ্য দেখান এবং আতলেতিকোর চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে উজ্জ্বল। এ বছর ১২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার অনেকগুলোতেই ছিলেন দলের সেরা খেলোয়াড়।

সুযোগ পেতে পারেন আরেক গোলরক্ষক হুয়ান মুসোও
ইনস্টাগ্রাম/মুসো

আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত মুসো খেলেছেন তিনটি অফিশিয়াল ম্যাচ। ২০১৯ সালে মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের জয়ে মাঠে ছিলেন ২৩ মিনিট। এরপর ২০২১ সালে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে একাদশে ছিলেন। আর ২০২৬ সালে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জেতা প্রীতি ম্যাচে খেলেছেন ১৬ মিনিট।

সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, বিকল্প গোলরক্ষকের দৌড়ে রুলিই কিছুটা এগিয়ে। তবে মুসোর সাম্প্রতিক ফর্ম রুলিকে নিশ্চিন্ত থাকতে দিচ্ছে না। ৬ ও ৯ জুন যথাক্রমে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটি স্কালোনির ভাবনা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে পারে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—১ নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে মার্তিনেজের জায়গা অটুট। পাশাপাশি তাঁর বিকল্প হিসেবেও আর্জেন্টিনার হাতে রয়েছে নির্ভরযোগ্য দুটি নাম।