এবার কি আর্জেন্টিনাও কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলবে
আলজেরিয়া আর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টানা দুই জয়। আর্জেন্টিনা নিজেদের কাজ সেরে ফেলেছে অনেক আগেই। লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করেছে নকআউট, নিশ্চিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও। গ্রুপ পর্বের জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ পেরিয়ে তাই এখন প্রশ্ন পৌঁছে গেছে পরের রাউন্ডে—নকআউটে তাহলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে?
‘এইচ’ গ্রুপ যেন এক জটিল সমীকরণ। একদিকে উরুগুয়ে বনাম স্পেন। অন্যদিকে কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব। দুটি ম্যাচই শুরু হবে আগামীকাল সকাল ছয়টায়। চারটি দল, চারটি সম্ভাবনা। আর প্রতিটি সম্ভাবনার ভেতরে আর্জেন্টিনার জন্য ভিন্ন ভিন্ন গল্প।
একটা সময় কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ছিল উরুগুয়ে। ইতিহাসের ভার, অভিজ্ঞতার গভীরতা, সব মিলিয়ে এক চেনা প্রতিদ্বন্দ্বী। আবার হিসাবের একটু এদিক-সেদিক হলেই সামনে চলে আসতে পারত স্পেন, যারা এখন গ্রুপের শীর্ষে দাঁড়িয়ে।
কিন্তু গল্পটা উলট-পালট করে দিয়েছে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া একটা দল-কেপ ভার্দে। শুনলেই মনে হয় আটলান্টিকের মাঝখানে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপ, যেখানে সমুদ্রের হাওয়া একটু বেশি নোনতা। কিন্তু এই বিশ্বকাপে সেই দ্বীপদেশ যেন একেবারে অন্য রূপ নিয়েছে। স্পেনকে রুখে দিয়েছে, উরুগুয়েকেও। দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে আটকে দিয়ে তারা যেন বলে দিয়েছে, এই মঞ্চে কেউই নিরাপদ নয়।
তাদের সামনে শেষ বাধা সৌদি আরব। ম্যাচটা জিততে পারলেই দরজা খুলে যাবে। আর সেই দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকবে আর্জেন্টিনা—বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!
আবার সৌদি আরবও আছে সমীকরণে। যে দল কাতারে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছিল, তারা কি আবারও সেই নাটক পুনরাবৃত্তি করতে পারে? যদি উরুগুয়ে শেষ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে জিততে না পারে, আর সৌদিরা নিজেদের ম্যাচ জিতে যায়, তাহলেই তারা হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ। তাহলে সেটি হবে অসমাপ্ত নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক। পরে যতই আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হোক, সৌদির কাছে সেই হারের তো একটা আলাদা যন্ত্রণা আছে। সেটার শোধ নিতে কি চাইবেন না মেসিরা?
আবার যদি কেপ ভার্দে পৌঁছায় নকআউটে, তাহলে সেটি হবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর এক গল্পের নতুন অধ্যায়। একটা দল যারা এরই মধ্যে বড়দের থামাতে শিখেছে, তারা এবার বড়দের হারাতে চ্যালেঞ্জ করবে।
মনে হয় না, তখনো আর্জেন্টিনার নির্ভার থাকার সুযোগ থাকবে!