প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট
সানজিদা চমকে সবার আগে সেরা আটে ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী
রংপুর শহরের কেন্দ্রস্থল শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে তখন পড়ন্ত বিকেল। মাঠের এক পাশে আনন্দ, অন্য পাশে হতাশা। জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছিল ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী ফুটবল একাডেমি, অন্যদিকে বুকভরা হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছিল পঞ্চগড়ের টুকু ফুটবল একাডেমি।
আজ রাঙ্গাটুঙ্গীর এই বাঁধভাঙা আনন্দের কারণ—দেশের ৩৬টি নারী ফুটবল একাডেমি নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এ সবার আগে চূড়ান্ত পর্ব; অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি মাঠে।
রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ফাইনালে রাঙ্গাটুঙ্গীর সামনে পাত্তাই পায়নি টুকু ফুটবল একাডেমি। একতরফা লড়াইয়ে টুকুকে সহজেই ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রাঙ্গাটুঙ্গী। রাঙ্গাটুঙ্গী শক্তিশালী দল, তাদের খেলোয়াড় নিয়ে ঠাকুরগাঁও চারবার রানার্সআপ হয়েছে জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবলে। জেএফএ কাপে তারা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নও। তার ওপর চমক হিসেবে রাঙ্গাটুঙ্গীর হয়ে এই টুর্নামেন্টে অতিথি হিসেবে খেলছেন দুইবারের সাফজয়ী তারকা সানজিদা আক্তার। নিজেকে তিনি চিনিয়েছেন আঞ্চলিক পর্বের দুই ম্যাচেই।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের কন্যা আজ সকালে অলিখিত আঞ্চলিক সেমিফাইনালে পঞ্চগড়ের টু স্টার ফুটবল একাডেমির বিপক্ষে রাঙ্গাটুঙ্গীর ২-০ গোলের জয়ে বড় অবদান রেখে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। ম্যাচে রাঙ্গাটুঙ্গীর হয়ে গোল দুটি করেন চন্দনা রানী ও মিরা ইসলাম। তবে তাঁদের ছাপিয়ে আক্রমণভাগে সানজিদার উপস্থিতি দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।
বিকেলে একই মাঠে আঞ্চলিক ফাইনালে টুকু ফুটবল একাডেমির বিপক্ষে রাঙ্গাটুঙ্গীর ম্যাচটা এমন একতরফা হবে, তা বোধ হয় তারা নিজেরাও ভাবতে পারেনি। প্রথমার্ধেই ৪-০ করে ফেলে রাঙ্গাটুঙ্গী। প্রথম দুটি গোল স্ট্রাইকার মোছা. কাকলি আক্তারের। পরের দুটি খোদ সানজিদা আক্তারের। শেষ দিকে ৫-০ করেন খুশি রানী।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনভর মুখর ছিল শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম। এই অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে পাঁচটি দল। কিশোরীদের মধ্যে মাঠে নিজেদের মেলে ধরার ব্যাকুলতা ছিল দেখার মতো। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা এমন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে ভীষণ খুশি, ঠিক একই রকম খুশি ছিলেন জাতীয় তারকা সানজিদা আক্তারও।
প্রথম ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের আর্থিক পুরস্কার ও ক্রেস্ট হাতে নিয়ে প্রথম আলো ও স্টার নিউজকে ধন্যবাদ জানিয়ে সানজিদা বলেন, ‘এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে গ্রামের মেয়েরা আরও অনুপ্রাণিত হবে।’
সানজিদার হাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার তুলে দেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ও প্রথম আলোর ক্রীড়া বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি মাসুদ আলম।
আঞ্চলিক ফাইনাল শেষে রংপুরের ভেন্যুতে বাজছিল বিদায়ের সুর। তারই মধ্যে ফাইনালে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে রাঙ্গাটুঙ্গীর কাকলি আক্তার ছিলেন ভীষণ উচ্ছ্বসিত। তিনি যেতে চান অনেক দূর, ‘আমরা ভালো খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। আশা করি, আরও ভালো করব।’
কাকলির হাতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার তুলে দেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ও প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র। উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান, সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন এবং রংপুরের মেয়ে কামরুন নাহার ডানা ও রংপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানা।
রংপুর অঞ্চলের পর টুর্নামেন্টের পরবর্তী গন্তব্য রাজশাহী। ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে হবে রাজশাহী অঞ্চলের খেলা।