আবারও ৫ টুর্নামেন্টের প্রতিশ্রুতি বাফুফের, আলোচনাতেই এল না কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গ
প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু বাস্তবায়নের দেখা নেই। টানা দুই মৌসুমে শীর্ষস্তরে পাঁচটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তাতে কি! কাল বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় আগামী মৌসুমের জন্য আবারও সেই পাঁচটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।
বাফুফে নতুন করে আশার বাণী শোনালেও তা বাস্তবায়ন হবে কি না, সে প্রশ্ন থাকছেই। জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা নিয়ে কাল আলোচনা হয়নি।
আগামী মৌসুমে যে পাঁচটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে; তার মধ্যে আছে এক ম্যাচের চ্যালেঞ্জ কাপ, বাংলাদেশ লিগ, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপ। গত মৌসুমের পর চলতি মৌসুমেও বাফুফে এই পাঁচটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিলেও সুপার কাপ ও স্বাধীনতা কাপ আয়োজন করতে পারেনি। চলতি লিগের প্রথম ও দ্বিতীয় লেগের মাঝখানে সুপার কাপ হওয়ার কথা জানিয়েছিল বাফুফে। আর লিগ শেষে শুধু স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
বাফুফের চার ঘণ্টার ম্যারাথন সভা শেষে এ নিয়ে কাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসানের ব্যাখ্যা, ‘গত বছর দেশে পরিবর্তিত পরিস্থিতি ছিল। তাই আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে হয়েছে।’ তবে আগামী মৌসুমে এই পাঁচটি টুর্নামেন্টই আয়োজনের ব্যাপারে আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাফুফে।
লিগ কমিটির প্রস্তাবনার ভিত্তিতে পাঁচটি টুর্নামেন্টই রাখা হয়েছে নতুন বর্ষপঞ্জিতে। উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনবার চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য কোটি টাকা অর্থ পুরস্কারের সুপার কাপ আয়োজিত হলেও এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তা বন্ধ। স্বাধীনতা কাপ বন্ধ ২০২৩ সালের পর।
বাফুফের দীর্ঘ এই সভায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল জাতীয় দলের কোচ নিয়োগ। জানা গেছে, আলোচ্যসূচিতে ১৯টি বিষয় থাকলেও ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনার পর ১১ নম্বরে থাকা কোচ নিয়োগের বিষয়টি আলোচনার টেবিলেই ওঠেনি। এ বিষয়ে বাফুফের এক সহসভাপতি জানান, যেহেতু এখনো কোচের আবেদন সংগ্রহের কাজ চলছে, তাই বিষয়টি আগামী সভায় আলোচনার জন্য তোলা হবে। আলোচ্যসূচিতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকলেও সেসব আলোচনাতেই আসেনি।
তবে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২২ মে বাফুফের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাইওনিয়ার লিগ আগামী ৫ জুনের মধ্যে শুরু করা হবে। এ ছাড়া সাফ কোটা বাতিল চেয়ে ৩০-৩৫ জন ফুটবলারের দেওয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাফুফে।
এ মৌসুম থেকে বাফুফে সাফ কোটা চালু করেছে, যেখানে সাফভুক্ত দেশগুলোর ফুটবলারদের ‘স্থানীয়’ হিসেবে গণ্য করে একটি দলে সর্বোচ্চ পাঁচজন সাফভুক্ত দেশের ফুটবলার নিতে পারার নিয়ম করা হয়েছে।