ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার বাতিলের দাবি নরওয়ে ফুটবলপ্রধানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দিচ্ছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোএএফপি

ফিফা ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কার বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। তাদের দাবি, এই পুরস্কার ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এনএফএফের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন পুরস্কার দেওয়া বন্ধ করতে তাঁরা চিঠি লিখবেন।

পাশাপাশি ‘ফেয়ারস্কয়ার’ নামে একটি প্রচারগোষ্ঠী শান্তি পুরস্কার নিয়ে যে অভিযোগ করেছে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে, সেটিকেও সমর্থন দেবে এনএফএফ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাডের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার তুলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে।

এ ছাড়া বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই (আইসিই)-এর কর্মকর্তারা যেন ম্যাচগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না বানান, এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা আদায়ে ফিফাকে চাপ দেবে এনএফএফ।

আরও পড়ুন

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘটনায় ফিফাকে ব্যাপক বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এ পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছে শুধু নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনই।

ক্লাভেনেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই এই পুরস্কার বাতিল করা হোক। এমন কোনো পুরস্কার দেওয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি না। এ কাজের জন্য স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে নোবেল ইনস্টিটিউট। ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তা ফিফার নিজস্ব রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এ ছাড়া ফিফার ভেতরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।’

এনএফএফের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস
ইনস্টাগ্রাম/লিসে ক্লাভেনেস

ক্লাভেনেস যোগ করেন, ‘ফিফার ফেডারেশন, কনফেডারেশন ও ফিফাকেও এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিরপেক্ষ দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন পুরস্কার সাধারণত রাজনৈতিক হয়ে যায়, যদি না তা স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা, অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও নিরপেক্ষ বিচারক প্যানেল থাকে। এটি একটি পূর্ণকালীন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ। সম্পদ, ম্যান্ডেট ও সর্বোপরি প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ এড়িয়ে চলাই উচিত।’

ক্লাভেনেস নিশ্চিত করেছেন যে এনএফএফ ‘ফেয়ারস্কয়ার’-এর করা অভিযোগকে সমর্থন করছে এবং বিষয়টি স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ক্লাভেনেস বলেন, ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গের বিষয়ে আমরা স্পষ্টভাবে অবস্থান নিয়েছি। এই শেষ অংশটিই আমরা চাই নৈতিকতা কমিটি মূল্যায়ন করুক। ফেয়ারস্কয়ার যে অভিযোগ করেছে তা আমরা সমর্থন করি। এটি যথাযথভাবে গ্রহণ, মূল্যায়ন ও নিষ্পত্তি করা উচিত। পুরো প্রক্রিয়াটি যেন সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। আর সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও চূড়ান্ত ফলাফলও যেন পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা হয়।’

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)-এর কর্মকর্তারা বিশ্বকাপে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হয়ে থাকবেন। তবে ক্লাভেনেসের আশঙ্কা, এই কর্মকর্তারা হয়তো দর্শকদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন। বিষয়টি তিনি ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে শুরু হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে তুলে ধরবেন।

ক্লাভেনেস বলেন, ‘আমরা ফিফা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তারা কীভাবে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে আইসিইর কার্যক্রম বা পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, সেটি জানতে চাইব। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবাই যেন নিরাপদে বিশ্বকাপে যেতে পারে এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারে। আমরা ফিফা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। বিশ্বকাপ হওয়া উচিত সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ।’