টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষেও জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু উল্টো নেপালের কাছে গোল খেয়ে বেশ বিপাকেই বাংলাদেশ। ৭ নভেম্বর গ্রুপের পরের ম্যাচে বাংলাদেশ আবারও মুখোমুখি হবে ভুটানের।

বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী আজ একটাই পরিবর্তন আনেন দলে। প্রথম ম্যাচের একাদশে খেলা মুনকি আক্তারের বদলে মাঠে নামান কানন রানী বাহাদুরকে। বাংলাদেশ মূলত ম্যাচটি হেরেছে নিজেদের ভুলে।

ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। কখনো ক্রসবারে লেগেছে, কখনো বল পাঠিয়েছে বাইরে। একাধিকবার অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়েও খেই হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। অন্যদিকে পুরো ম্যাচে মাত্র একটা ভালো সুযোগ পায় নেপাল, সেই সুযোগ থেকেই গোল করে পুরো ৩ পয়েন্ট আদায় করেছে।

দুই ম্যাচের দুটিতেই নেপালের পয়েন্ট ৬। আর দুই ম্যাচে ১ জয় ও ১ হারে ৩ পয়েন্ট বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে পরের দুটি ম্যাচই জিততে হবে বাংলাদেশকে। শেষে গিয়ে পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে শিরোপা জিতবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল।

কয়েক বছর ধরেই গোলাম রব্বানীর হাত ধরে সাফল্য পেয়ে আসছে বাংলাদেশের মেয়েরা। অনেক দিন পর এমন একটি হারের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে হতাশ কোচ বলছিলেন, ‘আজকের ম্যাচে মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের সমস্যাগুলো তৈরি করেছে। আমি মনে করি এই ভুল থেকে পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।’

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে নেপালকে হারিয়ে সাফের চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ জাতীয় দল। ওই ম্যাচটি দশরথ স্টেডিয়ামে বসে দেখেছিলেন নেপালের বর্তমান কোচ ভগবতী রানা মাগার। আজ বাংলাদেশকে হারানোর পর তিনি বলছিলেন, ‘মেয়েরা ওই ফাইনালের হারের প্রতিশোধ নিয়েছে। আমি খুবই খুশি। বাংলাদেশই ভালো খেলেছে।

আমরা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। ভালো একটা সুযোগ থেকে গোল করেছে নেপাল। এই জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে মেয়েদের। আমরা এখন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।’
এই আনন্দের মাঝেও দুঃসংবাদ নেপালের জন্য। তাদের প্রধান গোলরক্ষক সুজাতা তামাংয়ের মুখে বল লাগার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। গতকাল রাতেই অবশ্য রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।