ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বলটির দাম উঠতে পারে ১২৩ কোটি টাকা
গোলটি এখনো আলোচিত, সমালোচিতও। বলটাকে ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। তবে এত দিন পর সেই বলটাও উঠে এল আলোচনায়। নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, কোন গোল আর কোন বলটি? ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নিলামে উঠতে যাচ্ছে বিখ্যাত সেই বল। টেক্সাসের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ অকশনস’ ২১ থেকে ২৩ আগস্ট এই নিলামের আয়োজন করবে। প্রতিষ্ঠানটির আশা, বলটির দাম আট অঙ্কে, অর্থাৎ কমপক্ষে ১ কোটি ডলারে (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা) পৌঁছাবে। নিলামে বলটির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ডলার, মানে প্রায় ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
‘হেরিটেজ অকশনস’-এর ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ড্যান ইমলার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটি ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় বল।’
ইমলারের দেওয়া আরেকটি তথ্য অবশ্য বলটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটিও হয়েছিল এই বল দিয়েই।
ম্যাচটা ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ভেন্যু মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ে। সেই জয়ের নায়ক ছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর দুটি গোলই জায়গা করে নেয় ফুটবলের রূপকথায়।
প্রথম গোলটি আসে ৫১ মিনিটে। ইংল্যান্ডের গোলকিপার পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে হেড করার ভান করে বাঁ হাত দিয়ে আলতো টোকায় বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। রেফারি সেটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ হয়। এর চার মিনিট পর আসে সেই গোল, যেটিকে পরে বলা হয়েছে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’।
ম্যাচ শেষে প্রথম গোলটি নিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘ম্যারাডোনার মাথার কিছুটা এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাতে’ গোলটি হয়েছে। আর তাঁর সেই দ্বিতীয় গোল? ৫৫ মিনিটে নিজেদের অর্ধে বল পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ইংল্যান্ডের গোলপোস্ট থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ৬০ গজ। এরপর শুরু হলো দৌড়। বল পায়ে ম্যারাডোনা ছুটলেন। যেন ১০ সেকেন্ডে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট!
ইংল্যান্ডের চারজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গেলেন তিনি। টেরি বুচারকে কাটিয়েছেন দুবার। এরপর গোলকিপার পিটার শিলটনকেও ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান। অবিশ্বাস্য, নান্দনিক সেই গোলকে অনেকে শুধু শতাব্দীর নয়, ফুটবল ইতিহাসেরই সেরা গোল মনে করেন।
একই ম্যাচে করা দুটি গোল। একটি নিয়ে এত সমালোচনা, অন্যটি নিয়ে এত প্রশংসা। কিন্তু দুটির আবেদনই এখনো অমলিন। বিশেষ করে আর্জেন্টাইনদের কাছে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটির আবেদন আলাদা। সেই টুর্নামেন্ট জিতে আর্জেন্টিনা নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছিল।
সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা যে জার্সি পরেছিলেন, সেটিও পরে ইতিহাস গড়েছে। নিলামে সেই জার্সির দাম উঠেছিল ৯৩ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। ফুটবলে এটিই সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া জার্সির রেকর্ড।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল-দ্বৈরথ অবশ্য সেখানেই শেষ হয়নি। চলতি বছর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই ম্যাচেও একই ব্যবধানে, ২-১ গোলে জিতেছিল লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা।