বিচিত্রিতা: আফকনে ফ্রান্সের জয়—মাঠে নয়, জন্মসনদে
খেলার মাঠে খেলা তো হয়ই, এর বাইরেও থাকে বিচিত্র অনেক কিছুই। মাঠে ও মাঠের বাইরের বিচিত্র সব ঘটনা নিয়েই এ আয়োজন।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনস, সংক্ষেপে আফকন। চাইলে টুর্নামেন্টটাকে ফ্রান্স কাপ হিসেবেও চালিয়ে দেওয়া যায়। মরক্কোয় চলমান টুর্নামেন্টে যে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ই সবচেয়ে বেশি খেলেছেন।
ফ্রান্সের ফুটবল–বিষয়ক ওয়েবসাইট ফুত মেরকাতো এবারের আফকনে অংশ নেওয়া ২৪টি দলের মোট ৬৫৮ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থান নিয়ে গবেষণা করেছে। সেই গবেষণাতেই উঠে এসেছে আফকনে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ই সবচেয়ে বেশি।
মেরকাতো লিখেছে, এবারের আফকনের মোট ১০৭ জন খেলোয়াড়ের জন্ম ফ্রান্সে। জন্মস্থানের এই হিসাবে আশপাশেও নেই অন্য কোনো দেশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট (২৯ জন), এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা (২৮), মিসর (২৫) এবং নাইজেরিয়া (২৪)। সব মিলিয়ে ১৮৬ জন খেলোয়াড়, অর্থাৎ টুর্নামেন্টে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের এক-চতুর্থাংশের বেশি ইউরোপ মহাদেশে জন্ম নেওয়া। তথ্য না থাকায় ৩১ জন খেলোয়াড়ের জন্মস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
দেশভিত্তিক খেলোয়াড়দের জন্মস্থান
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ভিন্ন ভিন্ন দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছে মরক্কো দলে—মোট ছয়টি ভিন্ন দেশের। ২৮ জনের দলে ১৪ জনের জন্ম মরক্কোতে এবং বাকি ১৪ জনের জন্ম বিদেশে—স্পেনে ৫ জন, ফ্রান্সে ৩ জন, নেদারল্যান্ডসে ৩ জন, বেলজিয়ামে ২ জন এবং কানাডায় ১ জন। এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মরোক্কান জনগোষ্ঠীদের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধির নিখুঁত উদাহরণ।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক বাস্তবতাও। উদাহরণ হিসেবে কমোরোসের কথা বলা যায়। এই দলের ১২ খেলোয়াড়ের জন্ম ফ্রান্সের বন্দরনগরী মার্শেই, ডানকার্ক কিংবা বোর্দোতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই কমোরিয়ানরা মেসাজরি মারিতিম নামের একটি জাহাজ কোম্পানির জাহাজে কাজ করতেন, পরে এসব বন্দরনগরীতে স্থায়ী হন এবং ধীরে ধীরে নিজেদের স্বজনদের সেখানে নিয়ে আসেন, যারা জাহাজ কারখানায় কাজ শুরু করেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। দলটির নির্বাচিত ২৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৯ জনের জন্ম স্পেনে। প্রায় ৬০ বছর আগে মধ্য আফ্রিকার এই দেশটি ছিল স্পেনের একটি প্রদেশ। সে সময় স্থানীয় জনগণ স্বাভাবিকভাবেই স্প্যানিশ নাগরিকত্ব পেতেন, যা দেশটির স্বাধীনতার (১৯৬৮) পরও স্পেনে অভিবাসনকে সহজ ও দ্রুততর করে।