এমবাপ্পেকে নিয়ে ট্রল আর সমালোচনার ঝড়, মরিনিওর জবাব: ‘হাস্যকর’
সমালোচনা এই মৌসুমে যেন কিলিয়ান এমবাপ্পের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠেছে। চোটের মধ্যে প্যারিসে যাওয়া, সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানো, মাঠের বাইরে তাঁর এমন নানা ঘটনা নিয়ে বিরক্ত রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের একাংশ। তবে এমবাপ্পেকে নিয়ে সমর্থকদের এসব সমালোচনা ভালোভাবে নেননি কোচ জোসে মরিনিও। ফরাসি অধিনায়ককে নিয়ে সব সমালোচনাকে সরাসরি ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ এই কোচ।
তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপর চোটের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তিনি ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে যান। এ সময় প্যারিসের একটি নৈশক্লাবের প্রবেশমুখে তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়। সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ট্রলও করতে থাকেন কেউ কেউ।
এমবাপ্পের এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মরিনিওর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য মিলিয়ে দেখছেন সমর্থকদের কেউ কেউ। কয়েক দিন আগেই রিয়াল কোচ বলেছিলেন, চোটের ঝুঁকি এড়াতে খেলোয়াড়দের স্কিইং কিংবা সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত। এরপর এমবাপ্পের সাইকেল চালানোর ছবি সামনে আসায় কেউ কেউ মনে করছেন, কোচের নির্দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছেন ফরাসি তারকা।
তবে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মরিনিও। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচের আগের দিন তিনি বলেছেন, ‘এই সমালোচনাগুলো কি বাড়াবাড়ি? অবশ্যই। এগুলো হাস্যকর।’
এমবাপ্পের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রিয়াল কোচ বলেন, ‘যেসব খেলোয়াড়কে প্রতিদিন উপস্থিত থেকে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলা হয়েছিল, তারা সবাই এখানে ছিল। অন্যদের মতো এমবাপ্পেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এসেছিল, যাতে তাঁর চোটের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর সে ফ্রান্সে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গেছে। কারণ, তার হাঁটুতে আগে থেকেই সমস্যার ইতিহাস আছে, যেটি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’
এমবাপ্পেকে নিয়ে সমালোচনার প্রতিটি বিষয়েই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মরিনিও। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচের মতে, ফুটবলসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমালোচকদের সন্তুষ্টি হচ্ছে না বলেই তাঁরা অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, ‘ফুটবল নিয়ে সমস্যাগুলো আপনাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আপনারা নৈশক্লাবের প্রসঙ্গ তুলেছেন। অথচ সেটি আসলে কোনো নৈশক্লাবের অনুষ্ঠান ছিল না। ফ্যাশন উইকের একটি ব্যক্তিগত আয়োজন ছিল সেটি।’
সুইজারল্যান্ডে এমবাপ্পের সাইকেল চালানো নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মরিনিও। তাঁর ভাষায়, ‘সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর যে ছবি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি ছিল একটি হোটেলে। সেখানে ছোট ছোট বাড়ি আছে। অতিথিরা সাইকেল ব্যবহার করে হোটেলের সবার জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোতে যেতে পারেন। অথচ আপনারা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছেন, যেন সে সুইজারল্যান্ডের সাইকেল রেসে অংশ নিচ্ছিল।’
আগামীকাল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পেকে সমর্থকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন মরিনিও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন বলে ‘নিশ্চিত’ এই কোচ।
এমবাপ্পেকে নিয়ে রিয়াল সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ এবারই প্রথম নয়। গত মাসেও তাঁকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ক্লাবটির কট্টরপন্থী সমর্থকগোষ্ঠী আলত্রাস সুর। ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই গোষ্ঠীকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।