মার্তিনেজের মতো নিজেকে ‘হাস্যকর’ বানানোর কথা ভাবতেও পারেন না লরিস

আন্তজার্তিক ফুটবলকে বিদায় বলেছেন লরিসছবি: রয়টার্স

এমনিতে তিনি মোটেও খারাপ গোলরক্ষক নন। সেটা হলে তো আর ফ্রান্সের হয়ে ১৫ বছর টানা খেলতে পারতেন না। আবার এই দেড় দশকে কখনোই একেবারে শীর্ষ দুই-তিনজন গোলরক্ষকের মধ্যেও হয়তো লরিসের নামটা আসবে না। জিয়ানলুইজি বুফন, অলিভার কান, হুলিও সিজার, ইকার ক্যাসিয়াস, ম্যানুয়েল নয়্যার কিংবা সাম্প্রতিককালের থিবো কোর্তোয়ার চেয়ে কিছুটা পিছিয়েই থাকবেন হয়তো।

তবে লরিস অন্যদের চেয়ে আলাদা তাঁর ব্যক্তিত্বের কারণে, অর্জনেও পিছিয়ে নন মোটেও। অধিনায়ক হিসেবে ২০১৮ বিশ্বকাপ জিতেছেন, জিতেছেন ২০২১ নেশনস লিগ। দুই দিন আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেওয়া ৩৬ বছর বয়সী এ গোলরক্ষকের তাই আক্ষেপ থাকার কথা না কোনো।

আরও পড়ুন

নাকি আছে? টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ক হওয়ার সুযোগও যে এসেছিল তাঁর সামনে। কিন্তু গত মাসে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে গেছে তাঁর দল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ গোলে সমতার পর ফ্রান্সের ভাগ্য অনেকটা তাঁর হাতেই এসে পড়েছিল।

মার্তিনেজের মতো নিজেকে ‘হাস্যকর’ বানাতে চান লরিস
ছবি: রয়টার্স

কিন্তু টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কোনো শটই ঠেকাতে পারেননি লরিস। ওদিকে তাঁর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নায়ক হয়ে গেছেন। ফ্রান্সের কিংসলে কোমানের শট ঠেকিয়েছেন মার্তিনেজ, চুয়ামেনিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’য়ে হারিয়ে অনেকটা মিস করতে বাধ্য করেছেন।

আরও পড়ুন

তবে টাইব্রেকারে যেভাবে মার্তিনেজ স্লেজিং করেছেন ফরাসি শুটারদের, যেভাবে ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’য়ে নেমেছেন, সেটা কতটা খেলোয়াড়সুলভ ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লে’কিপে্র সঙ্গে যে সাক্ষাৎকারে লরিস জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, সেখানেই এই প্রসঙ্গটাও এসেছে। তিনি কি চাইলে এমন কিছু করতে পারতেন?

লরিস উত্তরটা দিয়েছেন নিজের স্বভাবসুলভ ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেই, ‘কিছু কিছু জিনিস আমার পক্ষে সম্ভব না। নিজেকে হাস্যকর বানানো, প্রতিপক্ষকে উত্ত্যক্ত করা, সীমালঙ্ঘন...এগুলো আমার সঙ্গে যায় না। আমি খুবই বিবেচক ও সৎ মানুষ। আমি জানি না ওসব করে কীভাবে জেতা যায়। যদিও এভাবে হারতেও আমার ভালো লাগেনি।’

মার্তিনেজ ও লরিস
ছবি: রয়টার্স

শুধু টাইব্রেকারের সময় ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’য়ের জন্যই নয়, মার্তিনেজ সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের পর লাগাম ছাড়া উদ্‌যাপননের কারণেও। তবে এ নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলতে চাননি লরিস, ‘আসলে সে সবকিছুতেই খুব তৎপর ছিল। উদ্‌যাপনের কথা যদি বলেন, সেটার জন্য এরই মধ্যেই সে যথেষ্ট কথা শুনেছে, আর বেশি কিছু বলার দরকার নেই। শুটআউটের সময় সে আমাদের অস্থিতিশীল করে দিতে যত কৌশল পারা যায় কাজে লাগিয়েছে।’

আরও পড়ুন