সিটিতে যোগ হয়েছে হলান্ডের মতো খেলোয়াড়। এই নামগুলো হয়তো আমাদের দেশে মেসি–নেইমারের মতো জনপ্রিয় নয়। তাতে কী আসে যায়! এদের নিয়েই তো ম্যান সিটি দল হিসেবে খেলে মাঠে আগুন ঝরায়। উদাহরণটা এই জন্যই দিলাম যে, তারকাসমৃদ্ধ না হয়ে দল হিসেবে খেলেও সাফল্য আসতে পারে। কোচরা এখন আসলে ‘দল হিসেবে’ খেলার দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন।

খেলোয়াড়ি জীবনে বিশ্বকাপে গোল দেখেছি দুই–তিনটি পাসে, কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত ঝলক দেখিয়ে হয়তো গোল করেছেন। এখন ১৫–২০ পাসেও গোল হয়। আর্জেন্টিনার ২৪ পাসে গোল আছে। এই তথ্যগুলোই বলছে, ফুটবল এখন কতটা দলীয় খেলা। ফলে পেলে, ম্যারাডোনা, গারিঞ্চার মতো ফুটবলার এখন আর দেখা যাবে না। তবে দল হিসেবে দুর্দান্ত কিছুই দেখবেন কাতারে।

মরুর দেশের আবহাওয়ায় এবার বিশ্বকাপের গতি একটু ধীর হবে বলে আমার ধারণা। কারণ, অন্যবার বিশ্বকাপের আগে দলগুলো ২০–২৫ দিন বিশ্রাম পেত। কিন্তু এবার সব দেশেই ঘরোয়া লিগ চলছিল, লিগের চাপও অনেক বেশি খেলোয়াড়দের ওপর। সেই চাপ নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে চলে এসেছেন সবাই। তা ছাড়া বিশ্বকাপে ম্যাচের সূচি খুব ঠাসা। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ক্লান্ত, ফলে চোটের শঙ্কা বেশি থাকবে। এবার শারীরিকভাবে বিশ্বকাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খেলোয়াড়দের একটু সমস্যা হতে পারে বলেই আমার ধারণা।

কাতারে যে ৩২টি দল খেলবে, সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে চারটি দল আসে সবার ওপরে। ফর্মের ভিত্তিতে প্রথমে বলব ফ্রান্স, ব্রাজিলের কথা। তারপর আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আমার চোখে ফ্রান্স ও ব্রাজিল বড় শক্তি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স গতবারের দলটা মোটামুটি ধরে রেখেছে।

চোটের কারণে পল পগবা বা কন্তের মতো খেলোয়াড় হয়তো তাদের মাঝমাঠে নেই। তবে এখনো ফ্রান্স শক্তিশালী, তাদের আক্রমণভাগ বিশ্বের অন্যতম সেরা। করিম বেনজেমা, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা যেকোনো কিছুই করতে পারে। যদিও পরপর দুবার বিশ্বকাপ জেতার দৃষ্টান্ত খুব বেশি নেই। তবে আমি মনে করি, শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ফ্রান্সের ওপর এবার বাজি ধরাই যায়।

ব্রাজিল দলটা নামেই এক শ। নেইমার ছাড়া অনেক খেলোয়াড় আছে তিতের ভান্ডারে, যারা অনেক কিছু করতে পারে। ভিনিসিয়ুসের মতো খেলোয়াড় কী করতে পারে, গত চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখেছি আমরা। সব মিলিয়ে ব্রাজিল একটা বড় শক্তি। আমার চোখে এরপর আর্জেন্টিনা। তবে ভুলে গেলে চলবে না আর্জেন্টিনার সেরা দুই স্ট্রাইকারের বয়স হয়েছে। আনহেল দি মারিয়ার বয়স ৩৪, লিওনেল মেসির ৩৫। চোটের কারণে বাদ পড়েছে তরুণ ফরোয়ার্ড নিকো গঞ্জালেস। তারপরও আমার চোখে আর্জেন্টিনারও বিশ্বকাপে জেতার ভালো সুযোগ আছে।

ইংলান্ড বহু বছর ধরে শিরোপা জেতে না। গত ইউরোর ফাইনালেও ওঠেনি চাপটা নিতে পারেনি বলে। তবে ইংল্যান্ড কখন ঘুম থেকে জেগে উঠে বলা যায় না। ওদের আমি বলব ‘স্লিপিং চাইল্ড’। ওদিকে আগের সেই দাপুটে জার্মানিকে দেখছি না। অনেকটা তারুণ্যনির্ভর হয়ে পড়েছে চারবারের বিশ্বসেরারা। চারবার বিশ্বকাপ জেতা ইতালি তো বিশ্বকাপেই আসতে পারেনি। বেলিজিয়াম আলোচনায় থাকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারে না। এবার পারবে কি না দেখার আগ্রহ রইল।

১৯৭৪ সালে আমি প্রথমবার বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখেছিলাম। আবাহনীর তৎকালীন আইরিশ কোচ বিল হার্ট সেবার বিশ্বকাপের ম্যাচের সিডি এনে আবাহনী ক্লাবের ছাদে ভিসিআরে দেখান আমাদের। সেই থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখছি। অনেকবার মাঠে বসে দেখার সুযোগ হয়েছে। তবে অতীতের সব অভিজ্ঞতা ছাপিয়ে এবার ভিন্ন কিছু দেখব বলেই মনে হচ্ছে।

ডি-বক্স থেকে কাজী সালাউদ্দিন