নেইমার ও এমবাপ্পে যেহেতু এখনো পিএসজিতে একসঙ্গে খেলছেন, একসঙ্গে গোল উদ্‌যাপন করছেন, তাই বলা যায়, প্যারিসে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। যদিও মৌসুমের শুরুতে পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে মাঠেই ঝামেলা হয়েছে দুই তারকার। এ নিয়ে পিএসজির কর্মকর্তারা দুজনকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর হাসিমুখে জানিয়েছিলেন, কিছুই হয়নি। নেইমার ও এমবাপ্পের মধ্যে নাকি কোনো ঝামেলা নেই।

কিন্তু দুই তারকার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে যখন ক্লাবকে একাধিকবার বিবৃতি দিতে হয়, তখন যদি কেউ ধরে নেন ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ তাহলে দোষ দেওয়া যায় না। সম্পর্কের বরফ না গললে এত বিবৃতির কী দরকার! এমবাপ্পে পিএসজিতে আসার পর থেকেই তো নিয়মিত বিরতিতে এমন বিবৃতি দিতে হচ্ছে পিএসজিকে।

অথচ নেইমারের পর এমবাপ্পে, এরপর মেসিও প্যারিসের ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর ভাবা হয়েছিল, ‘ত্রিরত্নে’র সম্মিলনে ইউরোপে সত্যিকারের ‘পাওয়ার হাউস’ হয়ে উঠবে পিএসজি। সামনে কী ঘটবে, তা তোলা রইল সময়ের হাতে। আপাতত বলা যায়, ইউরোপ–সেরার কাতারে উঠতে দলবদল থেকে শুরু করে মাঠে পিএসজি অন্তত চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না। তবু কোথায় যেন সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

এসবের মধ্যেই একটি গুঞ্জনের অবসান ঘটালেন পিএসজির ফুটবল উপদেষ্টা লুইস কাম্পোস—নেইমার কোথাও যাচ্ছেন না। থাকছেন পিএসজিতেই।

দলবদলের মৌসুমে শোনা গিয়েছিল, পিএসজি ছাড়তে চান নেইমার। এমবাপ্পের সঙ্গে বাজে সম্পর্কের গুঞ্জনকে তখন কারণ হিসেবে দেখেছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার ভেবেছেন, পিএসজি যেহেতু নেইমারের নৈশজীবন এবং মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত, ব্রাজিলিয়ান তারকা সে জন্যই বোধ হয় প্যারিস ছাড়তে চান। ভুল। নেইমার কোথাও যাচ্ছেন না, জানিয়েছেন লুইস কাম্পোস। সংবাদমাধ্যম তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিল, নেইমার পিএসজি ছাড়ছেন কি না? কাম্পোস বলেছেন, ‘না। আমি তো এমনও শুনেছি, কিলিয়ান চায় আমরা যেন নেইমারকে পিএসজি থেকে বের করে দিই। না। আমরা তিনজনের ওপরই ভরসা রাখছি।’

কাম্পোস ব্যাখ্যা করেন, ‘গত বছর এমবাপ্পে ছিল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। মেসি মানিয়ে নিচ্ছিল। চোটে ছিল নেইমার। এমবাপ্পে তখন দলের সবাইকে এক সূত্রে গেঁথেছে। কিন্তু নেইমার যে খুব ভালো খেলোয়াড়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আগে তার সম্পর্কে ভুল শুনেছি। সে সময়মতোই অনুশীলনে আসে। দল ও ক্লাবের পরিকল্পনায় আমি নেইমারকে দেখি।’

চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাকাবি হাইফার সঙ্গে জয়ের পর এখন লিগ আঁ–তে মাঠে নামার অপেক্ষায় পিএসজি। কাল রোববার লিঁও–র মুখোমুখি হবে ক্রিস্তোফ গালতিয়েরের দল। ৭ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে মার্শেই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন