দুঃস্বপ্নেরও তো একটা সীমা আছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে, চিরশত্রুর কাছে হেরে তাদের হাতেই শিরোপা তুলে দেওয়া—এটা বোধ হয় সেই সীমারও ওপারে।
রিয়াল মাদ্রিদ এখন সেই সীমাহীন দুঃস্বপ্নের সামনে দাঁড়িয়ে। আর তাদের সেই দুঃস্বপ্ন সত্যি হতে পারে আজ কাতালুনিয়ার আকাশের নিচে, বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে। কারণ, লা লিগায় আজকের এল ক্লাসিকো যে স্রেফ একটি ম্যাচ নয়, এই মৌসুমের শিরোপার ফয়সালা হতে পারে এই ৯০ মিনিটে।
আরও একটা কারণে এই ক্লাসিকোটা বিশেষ, ক্যাম্প ন্যুতে ১১৪৮ দিন পর আজ বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ দ্বৈরথ দেখবেন দর্শকেরা। যে ক্লাসিকোকে ড্র-ই বার্সার মাথায় তুলে দিতে পারে স্প্যানিশ ফুটবলের মুকুট, আর রিয়াল মাদ্রিদকে ঠেলে দিতে পারে টানা দ্বিতীয় শিরোপাহীন মৌসুমের অন্ধকারে।
লা লিগায় কিছুদিন ধরেই যেন বসন্তের বাতাস বইছে বার্সেলোনায়। ৪টি করে ম্যাচ হাতে রেখে রিয়ালের ১১ পয়েন্টে এগিয়ে হান্সি ফ্লিকের দল। আজ শিরোপা নিশ্চিত করলেই যে হান্সি ফ্লিক নাম লেখাবেন ইতিহাসে। এই শতাব্দীতে পেপ গার্দিওলা, লুইস এনরিকে ও এরনেস্তো ভালভার্দের পর বার্সার চতুর্থ কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দুই মৌসুমেই লিগ জেতার দারুণ এক কীর্তি গড়বেন জার্মান এই মাস্টারমাইন্ড। তবে শুধু ড্র নয়, কাতালানরা নিশ্চয়ই চাইবে আবার সিংহাসনে বসাটাকে রাঙাতে চাইবে জয়ের রঙে।
এদিকে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম যেন এক তপ্ত আগ্নেয়গিরি। অনুশীলনের শেষে ফেদে ভালভার্দে ও অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির মধ্যকার বাগ্বিতণ্ডা গড়িয়েছে হাতাহাতিতে। মাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে উরুগুয়ে অধিনায়ক ভালভার্দেকে, মাঠের বাইরে থাকতে হবে অন্তত দুই সপ্তাহ। রিয়াল কর্তৃপক্ষ দুজনকে জরিমানা করলেও কোচ আলভারো আরবেলোয়া চুয়ামেনিকে ক্লাসিকোর স্কোয়াডে রেখেছেন।
সেই তথ্যটা জানাতে গিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আরবেলোয়া এটাও বলেছেন, ‘ড্রেসিংরুমে যা ঘটে, তা সেখানেই থাকা উচিত। কিন্তু ভেতরের খবর বাইরে পাচার হওয়াটা ক্লাবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।’
এরপর যেন পরিবেশ হালকা করলেই মজার ছলে একটা স্মৃতিচারণাও করলেন। ২০০৭ সালে লিভারপুলে থাকার সময় তাঁর এক সতীর্থ ক্রেগ বেলামি গলফ ক্লাব দিয়ে মেরেছিলেন আরেক সতীর্থ জন আর্নে রিসেকে। এরপর বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করে বেলামি গলফ ক্লাব সুইংয়ের ভঙ্গি করে উদ্যাপন করেছিলেন! আরবেলোয়ার কথা, ‘এই ধরনের ঘটনা আগেও হয়েছে, সব জায়গায় হয়। তবে আমি এটাকে সমর্থন করছি না।’
তবে আরবেলোয়া যতই ব্যাপারটা হালকা করার চেষ্টা করছেন, শিরোপাহীন থাকার চাপ যে রিয়ালকে অস্থির করে তুলেছে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট।
অন্যদিকে বার্সার খেলোয়াড়েরা আছেন বেশ খোশমেজাজে। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে ১৭ ম্যাচের সব কটিতেই জয়; ৫২ গোল দিয়ে খেয়েছে মাত্র ৯টি। লামিনে ইয়ামাল হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে ছিটকে গেলেও রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসরা আছেন চেনা ছন্দে।
অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে না থাকায় রিয়াল মাদ্রিদ তাকিয়ে থাকবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকে। এই ম্যাচে কিছু করতে হলে জ্বলে উঠতে হবে ভিনিকে। সঙ্গে জুড বেলিংহামও আছেন, যিনি যেকোনো মুহূর্তেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
পরিসংখ্যান থেকেও একটু সাহস পেতে পারে রিয়াল; লা লিগায় সর্বশেষ ১২টি ক্লাসিকোর মধ্যে ৮টিতেই জিতেছে তারা। আর বার্সেলোনার মাঠে দুই দলের সর্বশেষ ছয় লিগ ম্যাচে বার্সা জিতেছে মাত্র দুটি।
আজ আরও একবার সেই মাঠে গিয়ে রিয়াল কি বার্সার শিরোপা উৎসব মাটি করে দিতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আর বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।